দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটটি।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোটের শরিকদের বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে তিনি পরাজিত হন।
এরপরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৬৮টি আসনে জয় পায়। জোটের মধ্যে এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পায়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের পর আবারও বিরোধী পক্ষের প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :