আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পৃথক আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। বিধিমালাগুলো আলাদা হলেও মূল নির্দেশনাগুলো প্রায় একই।
আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া তথ্য ছড়ানো, কারও চরিত্র হনন এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অনলাইন প্রচারণা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থী প্রচার চালাতে পারবেন না। একইভাবে নির্বাচনী প্রচারে জনসভা ও মিছিল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন থাকতে পারবেন।
ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাদের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবায় লেনদেনের জন্য ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আচরণবিধিতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাসহ নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রার্থী ছাড়া স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও করতে পারবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন এ আচরণবিধি জারি করেছে ইসি। নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :