জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়া বিভিন্ন শাস্তি মওকুফ ও দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তারা মার্জনা চেয়ে আবেদন করার পর রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেছেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে রাজস্ব খাতের আন্দোলনের সময় বদলির আদেশ পেয়ে কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সেই আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। কয়েকজন আন্দোলনের সংগঠক হিসেবেও ভূমিকা রাখেন, আবার কেউ কেউ নিজ নিজ দপ্তরে কাজ বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এসব কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। শাস্তির মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত ও বেতন গ্রেড অবনমনের মতো ব্যবস্থাও ছিল।
আইআরডির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মার্জনা চেয়ে আপিল আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন মঞ্জুর করে আগের দণ্ডাদেশ বাতিলের নির্দেশ দেন।
শাস্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কমিশনার জাকির হোসেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর রয়েছেন।
২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারির পর এর বিরোধিতা করে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় দেড় মাস আন্দোলন করেন। জুনের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন শুল্ক ও কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
অর্থবছরের শেষ সময়ে এই কর্মসূচির কারণে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান, মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। পরে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করা হলেও এর জেরে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি, বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির আদেশে এখন সেই শাস্তিপ্রাপ্ত ২০ কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ বাতিল করা হলো।
আপনার মতামত লিখুন :