প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা এবং বাতাসে অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে দর্জির কাজের পাশাপাশি একটানা দুই দশক ধরে নিঃস্বার্থভাবে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষপ্রেমিক আবুল কালাম আজাদ। নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কেবল পরিবেশ ও আগামী প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসার টানে নিজের কষ্টে অর্জিত অর্থ দিয়েই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এই মহতী উদ্যোগ।
পেশায় দর্জি হলেও আবুল কালাম আজাদের ধ্যান-জ্ঞান এখন প্রকৃতি। গত ২০ বছর ধরে তিনি নিজ খরচে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছসহ অসংখ্য তালবীজ রোপণ করে আসছেন। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, যমুনা নদীর ক্রসবার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পাশে তার রোপণ করা গাছগুলো এখন ডালপালা মেলে বড় হয়ে উঠেছে। দৃশ্যমান এসব গাছ শুধু এলাকার সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করেনি, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি বুধবার (৪ আগষ্ঠ) বিকেলে শহরের ঐতিহ্যবাহী ইলিয়ট ব্রিজের পাশে একটি জলপাই গাছ রোপণ করেন তিনি। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে এই ব্রিজের ঢালে তিনি প্রচুর পরিমাণে তালবীজ, নিম গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেছিলেন, যা আজ দৃষ্টিনন্দন রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাত প্রতিরোধে তার রোপণ করা তালগাছগুলো ভবিষ্যতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবুল কালাম আজাদের এই একক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি স্বচ্ছল না হয়েও পরিবেশ রক্ষায় তার এই দীর্ঘমেয়াদী অবদানকে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে, তখন আবুল কালাম আজাদের মতো মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজ ও দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য, সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে তার এই সংগ্রাম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সরকারি বা বেসরকারিভাবে তার এই কাজে কিছুটা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :