ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার দৃষ্টি সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং গেজেট প্রকাশ হয়েছে। অধিবেশন শুরু হলে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—যেসব নেত্রী দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিএনপি নেতাদের মতে, দলীয় সংগ্রাম-সংকটে অবদান রাখা নারী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত নেত্রীরাই বিবেচনায় থাকবেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেত্রী বিলকিস জাহান শিরীন মনে করেন, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় করে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়দের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের যেসব নেত্রী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
আরেক নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি দুঃসময়ে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, প্রতিকূল সময়ে যারা দলের পাশে ছিলেন, তাদের অবদান যেন উপেক্ষিত না হয়।
হেলেন জেরিন খান বলেন, সংসদ কেবল উপস্থিতির জায়গা নয়—এটি আইন প্রণয়ন ও বিতর্কের ক্ষেত্র। তাই সংরক্ষিত আসনে এমন নারীদের প্রয়োজন, যারা দক্ষ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ত্রয়োদশ সংসদে সংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষিত ৫০ আসনের মধ্যে বিএনপির ভাগে যাবে ৩৫টি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি আসন। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির অভ্যন্তরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে—দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রী, নাকি নতুন প্রজন্মের মুখ—কারা শেষ পর্যন্ত জায়গা পাবেন সংরক্ষিত নারী আসনে।
আপনার মতামত লিখুন :