বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনা শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যরা জাতির গর্ব এবং তাঁদের স্মৃতি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্বপরিসরেও অন্যতম নৃশংস ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, তবে সেই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা হয় এবং তার প্রতিবেদন সরকারের হাতে রয়েছে। তবে সে সময় প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার নতুন করে কমিশন গঠন না করে বিদ্যমান কমিশনের সুপারিশ ও বিচারাধীন মামলাগুলোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং কমিশনের অন্যান্য সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি শহীদ পরিবারগুলোর উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে অবিশ্বাসী চক্রের দ্বারাই সংঘটিত হতে পারে।
সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :