পবিত্র কোরআনের Qur'an-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াতে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষায় ভাষার ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। Surah Al-Isra (বনি ইসরাঈল), আয়াত ৫৩-এ আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন—মানুষ যেন এমন কথা বলে, যা সর্বোত্তম ও কল্যাণকর। কারণ শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে সদা তৎপর; সে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের আদেশ করছেন, তারা যেন কোমল, ন্যায়সঙ্গত ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় কথা বলে। তিক্ততা, কটূক্তি ও অপমানজনক বাক্য পরিহার করতে বলা হয়েছে; কেননা এগুলো বিরোধ বাড়ায় এবং শয়তানের প্ররোচনাকে শক্তিশালী করে।
মুফাসসিরগণ এই আয়াতকে সামাজিক শান্তির মৌলিক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—
ইমাম তাবারী (রহ.) বলেন, “الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ” বলতে এমন বাক্য বোঝায় যা সত্য, নম্র ও বিবাদহীন। কঠোর ভাষা শয়তানের জন্য সুযোগ তৈরি করে।
ইবনে কাসীর (রহ.) উল্লেখ করেন, বিশেষ করে মতবিরোধের সময় উত্তম ভাষা ব্যবহার করা জরুরি; কারণ রূঢ় শব্দ ক্রোধ বাড়ায় এবং শত্রুতার জন্ম দেয়।
ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, অধিকাংশ ঝগড়ার সূচনা হয় একটি বাক্য দিয়ে। একটি কঠিন কথা বহু বছরের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহ.) মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান, মানুষের অন্তরে অহংকার ও রাগের প্রবণতা থাকে; কঠোর ভাষা তা উসকে দেয়, ফলে যুক্তিবোধ ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
১. শান্তি ও অশান্তির সূচনা অনেক সময় একটি শব্দ থেকেই হয়।
২. মতভেদ হলে ভাষা আরও সংযত ও মার্জিত হওয়া উচিত।
৩. পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বে শয়তানের প্ররোচনা কাজ করতে পারে—এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
৪. বিতর্কে জেতা নয়, সম্পর্ক রক্ষা করাই ইসলামের অগ্রাধিকার।
৫. দাওয়াত, শিক্ষা, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই উত্তম ভাষা অপরিহার্য।
ইসলাম শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় না; মানবিক আচরণ ও যোগাযোগের নৈতিকতাও নির্ধারণ করে। অনেক সময় মানুষ আমল-ইবাদতে যত্নবান হলেও কথাবার্তায় অসতর্ক থাকে, যা সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোরআনের এ নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দেয়—একজন প্রকৃত মুমিনের ভাষা হবে কোমল, সম্মানজনক ও কল্যাণমুখী; কারণ উত্তম বাক্যই সম্পর্ককে সুদৃঢ় রাখে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণাকে প্রতিহত করে।
আপনার মতামত লিখুন :