• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কোরআনের দিকনির্দেশ


FavIcon
আলোকিত ডেস্কঃ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:২০ এএম
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কোরআনের দিকনির্দেশ

পবিত্র কোরআনের Qur'an-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াতে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষায় ভাষার ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। Surah Al-Isra (বনি ইসরাঈল), আয়াত ৫৩-এ আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন—মানুষ যেন এমন কথা বলে, যা সর্বোত্তম ও কল্যাণকর। কারণ শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে সদা তৎপর; সে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।

আয়াতের সরল অর্থ

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের আদেশ করছেন, তারা যেন কোমল, ন্যায়সঙ্গত ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় কথা বলে। তিক্ততা, কটূক্তি ও অপমানজনক বাক্য পরিহার করতে বলা হয়েছে; কেননা এগুলো বিরোধ বাড়ায় এবং শয়তানের প্ররোচনাকে শক্তিশালী করে।

তাফসিরের আলোকে ব্যাখ্যা

মুফাসসিরগণ এই আয়াতকে সামাজিক শান্তির মৌলিক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—

  • ইমাম তাবারী (রহ.) বলেন, “الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ” বলতে এমন বাক্য বোঝায় যা সত্য, নম্র ও বিবাদহীন। কঠোর ভাষা শয়তানের জন্য সুযোগ তৈরি করে।

  • ইবনে কাসীর (রহ.) উল্লেখ করেন, বিশেষ করে মতবিরোধের সময় উত্তম ভাষা ব্যবহার করা জরুরি; কারণ রূঢ় শব্দ ক্রোধ বাড়ায় এবং শত্রুতার জন্ম দেয়।

  • ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, অধিকাংশ ঝগড়ার সূচনা হয় একটি বাক্য দিয়ে। একটি কঠিন কথা বহু বছরের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।

  • ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহ.) মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান, মানুষের অন্তরে অহংকার ও রাগের প্রবণতা থাকে; কঠোর ভাষা তা উসকে দেয়, ফলে যুক্তিবোধ ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

আয়াতের বাস্তব শিক্ষা

১. শান্তি ও অশান্তির সূচনা অনেক সময় একটি শব্দ থেকেই হয়।
২. মতভেদ হলে ভাষা আরও সংযত ও মার্জিত হওয়া উচিত।
৩. পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বে শয়তানের প্ররোচনা কাজ করতে পারে—এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
৪. বিতর্কে জেতা নয়, সম্পর্ক রক্ষা করাই ইসলামের অগ্রাধিকার।
৫. দাওয়াত, শিক্ষা, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই উত্তম ভাষা অপরিহার্য।

সমাপনী ভাবনা

ইসলাম শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় না; মানবিক আচরণ ও যোগাযোগের নৈতিকতাও নির্ধারণ করে। অনেক সময় মানুষ আমল-ইবাদতে যত্নবান হলেও কথাবার্তায় অসতর্ক থাকে, যা সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোরআনের এ নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দেয়—একজন প্রকৃত মুমিনের ভাষা হবে কোমল, সম্মানজনক ও কল্যাণমুখী; কারণ উত্তম বাক্যই সম্পর্ককে সুদৃঢ় রাখে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণাকে প্রতিহত করে।


Side banner
Link copied!