• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ঈদযাত্রায় নৌপথে বাড়তি ভাড়া-অতিরিক্ত যাত্রীতে শূন্য সহনশীলতা


FavIcon
আলোকিত ডেস্কঃ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ঈদযাত্রায় নৌপথে বাড়তি ভাড়া-অতিরিক্ত যাত্রীতে শূন্য সহনশীলতা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল-ফিতরকে সামনে রেখে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বা মালামাল বহন এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌপুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বয়ে কাজ করবে।

নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ

১৬–২৫ মার্চ পর্যন্ত বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকার চলাচল সার্বক্ষণিক বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ, দিনে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক। ১৭–২৪ মার্চ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্য ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন হয়।

ভাড়া ও ধারণক্ষমতায় কঠোর নজরদারি

অনুমোদিত ভাড়ার বাইরে আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লঞ্চের ছাদে যাত্রী উঠানো যাবে না। ভাড়া তালিকা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

ফিটনেসবিহীন নৌযান চলবে না

ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ। সিরিয়াল ভঙ্গ, মাঝনদী থেকে যাত্রী ওঠানো বা অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও হয়রানি ঠেকাতে বিশেষ করে রাতের টহল জোরদার থাকবে।

যাত্রীসেবা উন্নয়ন

প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার মোতায়েন, ঘাটভিত্তিক ভিজিল্যান্স টিম ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। নদীবন্দর ও টার্মিনালে পানীয় জল, স্যানিটেশন, মোবাইল চার্জিং, ব্রেস্টফিডিং কর্নারসহ নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

দুর্ঘটনা মোকাবেলায় উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ফায়ার সার্ভিসকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌচ্যানেল মার্কিং, খনন ও পন্টুন স্থাপনের কাজও জোরদার করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯ এবং যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ হটলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।


Side banner
Link copied!