চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এম মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবিতে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে যাওয়ার সময় উপদেষ্টা গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলকারীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনও কাজ করবে না। আগে যেমন একটি মাফিয়া গোষ্ঠী বন্দরকে নিয়ন্ত্রণ করতো, ভবিষ্যতে আর এমনটা হবে না।
এ সময় বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবি জানান শ্রমিক কর্মচারীরা। তাদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা জানান, সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে দুপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি একা আলোচনা করবেন। বিষয়টির সমাধান করার মানসিকতা নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। এ কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন জেটিতে অবস্থানরত জাহাজ থেকে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সব ধরনের কাজ বন্ধ আছে।
এমনকি বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়া, অফডক থেকে কনটেইনার আনা-নেওয়া এবং বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ গত ছয় দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছে।
এর মধ্যে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। সোমবার কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেন তারা। মঙ্গলবার পুনরায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন।
আপনার মতামত লিখুন :