বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), ঢাকায় কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল হাসান খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায় করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও অন্যান্য রাজস্ব সংক্রান্ত সেবায় কামরুল হাসান খানের সরাসরি বা দালালচক্রের মাধ্যমে নির্ধারিত ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে হয়রানি, কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো এবং বারবার অফিসে ঘুরতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
সূত্র জানায়, বিআরটিএ কার্যালয়ের আশপাশে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র কামরুল হাসান খানের ছত্রচ্ছায়ায় কাজ করে। সেবাপ্রার্থীদের প্রথমে দালালের কাছে পাঠানো হয় এবং পরে নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে সরকারি নির্ধারিত ফি উপেক্ষিত হয়ে সাধারণ মানুষকে গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও তিনি নিয়মিত অফিস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখেন না। ফাইল নিষ্পত্তিতে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব, পছন্দের ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং বিধি বহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তার আয়ের সঙ্গে বর্তমান জীবনযাত্রা ও সম্পদের দৃশ্যমান অবস্থার অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল হাসান খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশিত হবে…।
আপনার মতামত লিখুন :