আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে শরীয়তপুরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল-এর ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে ডায়রিয়ার জন্য নির্ধারিত ১০টি বেড থাকলেও প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ফলে বেডের সংকটে অনেককেই হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শিশু ও বয়স্ক মিলিয়ে ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতার পাঁচগুণ রোগী চিকিৎসাধীন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বেড না পেয়ে বাধ্য হয়ে শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। সেবা পেতে বিলম্ব ও পরিবেশের অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন তারা।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বরত এক নার্স জানান, প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে, কিন্তু জনবল সীমিত। একজন বা দুজন নার্স দিয়ে এত রোগীর সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, দিনে গরম আর রাতে তীব্র ঠান্ডা—এই অস্বাভাবিক আবহাওয়াই শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ১০ শয্যার বিপরীতে অনেক সময় ৫০ থেকে ৮০ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকেন। বাধ্য হয়ে ফ্লোর ও বারান্দায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা রোগী ও চিকিৎসক—উভয়ের জন্যই কষ্টকর।
তিনি আরও জানান, নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ হলে ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ অন্যান্য বিভাগ স্থানান্তর করে রোগীদের আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :