শরীয়তপুর শহরের নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এআই প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। আধুনিক এ নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধ দমন, বাজারদর পর্যবেক্ষণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর শহরের ভেতর দিয়ে ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরমুখী সড়কসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর সংযোগপথ রয়েছে। পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা। এছাড়া সরকারি কলেজ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, আদালত, বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে শহরজুড়ে। শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তিনাশা নদীপথও এই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
সম্প্রতি ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও হত্যার মতো একাধিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের দুটি দানবাক্স ভেঙে অর্থ লুটের ঘটনা এবং কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে। এসব প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
তাহসিনা বেগম-এর তত্ত্বাবধানে তিনটি প্রধান সড়ক ও সংযোগপথের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১২০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি ভবনও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। কোটাপাড়া এলাকায় নদীপথেও নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এআই–সমৃদ্ধ ক্যামেরাগুলো দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড বা সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক সংকেত যাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বিভাগও এই সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে।
জেলা প্রশাসক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। প্রচলিত অভিযানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হওয়ায় প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো পৌর এলাকা এবং জেলার অন্যান্য পৌরসভাতেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :