• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ডিএনসিতে অদৃশ্য বলয়: শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ডিএনসিতে অদৃশ্য বলয়: শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ভেতরে এখনো সক্রিয় রয়েছে সাবেক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া একাধিক প্রভাবশালী দোসর—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদেরই একজন হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা মেট্রো অঞ্চল (উত্তর)-এর উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অবৈধ অর্থ উপার্জন, চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ গুরুতর হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ নিয়ে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন মহলে রহস্যজনক নীরবতা ও অদৃশ্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সূত্র জানায়, শামীম আহমেদ ঢাকা ও চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে অনুমোদনহীন রেস্টুরেন্ট, বার ও সিসা লাউঞ্জকে কেন্দ্র করে ‘অভিযানের ভয়’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে জড়িত ছিলেন। ঢাকা মেট্রো উত্তর অঞ্চলের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার এই তৎপরতা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুলশান-বনানীসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তিনি একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার সদস্যরা তার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে থাকে। নির্ধারিত অর্থ না পেলে কখনো কখনো আকস্মিক অভিযান চালিয়ে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
গত বছরের শেষ দিকে গুলশানের একটি হোটেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন গুলশান সার্কেল ইনচার্জ মো. এনামুলের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি অভিযানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অভিযানে বহিরাগত লোক ব্যবহার, মারধরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ইনচার্জ ও সহকারী পরিচালককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করলেও, অভিযানের সার্বিক দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ তদন্তের বাইরে থেকে যান। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে দায়ভার কার?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, চট্টগ্রাম মেট্রোতে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকাকালে শামীম আহমেদ একটি নিজস্ব লোকবল বা বাহিনী তৈরি করেন। বাণিজ্যিক কলোনি এলাকায় মাদক বেচাকেনা কেন্দ্র করে নিয়মিত চাঁদা আদায় হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শামীম আহমেদ দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে কারণেই তার অধিকাংশ বদলি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থানে। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রাজনৈতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে সাদা করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

অভিযোগ আছে, ব্যক্তিগত জীবনে ও দাপ্তরিক কাজে শামীম আহমেদ তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক আচরণ করেন। এতে অফিসের ভেতরে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে।

গত ১৪ জুন শামীম আহমেদের অপসারণ দাবিতে শাহবাগে সচেতন ছাত্র-জনতার ব্যানারে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলকারীরা অভিযোগ করেন, শামীম আহমেদ ঢাকা মেট্রো উত্তর অঞ্চলের দায়িত্ব নেওয়ার পর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, বনানী, ধানমন্ডি, রমনা, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের কারবার বেড়েছে।
অভিযুক্ত শামীম আহমেদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—এত গুরুতর, ধারাবাহিক অভিযোগ থাকার পরও কেন শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? তিনি কি কোনো অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় রয়েছেন?

এই পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Link copied!