• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম

ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীমকে ঘিরে সম্প্রতি দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কারণে তিনি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি এবং তার সহযোগী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ওই অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম।

বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে একটি সক্রিয় দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে অবৈধ সুবিধা আদায় করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন হলে আবেদনকারীরা ঘরে বসেই দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে যান। অন্যদিকে, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, তদন্ত জটিল করা এবং দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিসের বাইরে অবস্থান করা কিছু বাহিরাগত ব্যক্তি নিয়মিত দালালের ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে এসব দালালের মাধ্যমে আবেদন জমা, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়। এই অবৈধ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে উপপরিচালক শামীমের প্রশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা ঘুষ দাবি বা গ্রহণ করতে পারেন না। তবে উপপরিচালক শামীম ও পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার আওতায় বিষয়টি ইতোমধ্যে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্ট অফিস প্রাঙ্গণেই বাহিরাগত দালালদের ঘুষ গ্রহণ করতে দেখা গেছে, যা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও বাড়িসহ আর্থিক প্রভাব বিস্তারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের মতে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

তারা আরও দাবি করেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সরকারি সেবায় শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ফিরবে।


Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Link copied!