• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

জন্মের পর অনাথ আশ্রমে পাঠানোর চাপ, সংগ্রাম পেরিয়ে তারকা পূজা চোপড়ার জীবনের অজানা গল্প


FavIcon
বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
জন্মের পর অনাথ আশ্রমে পাঠানোর চাপ, সংগ্রাম পেরিয়ে তারকা পূজা চোপড়ার জীবনের অজানা গল্প

বলিউড অভিনেত্রী ও ২০০৯ সালের মিস ইন্ডিয়া পূজা চোপড়ার জীবনের শুরুটা ছিল বেদনাময়। জন্মের পর তাকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে দেওয়া কিংবা হত্যা করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পূজার মা নীরা চোপড়া।

সম্প্রতি একটি ভারতীয় রিয়েলিটি অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন নীরা চোপড়া। তিনি জানান, দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ার পর পারিবারিক নির্যাতন ও অবহেলার মুখে পড়তে হয় তাকে।

নীরার ভাষ্য, প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের সময় পরিবারের আচরণ স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয়বার সন্তান ধারণের পর তাকে ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সাত বছর পর দ্বিতীয় কন্যা হিসেবে পূজা চোপড়ার জন্ম হলে পরিবারের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায়।

তিনি জানান, সন্তান জন্মের পর টানা তিন দিন হাসপাতালে তাকে দেখতে পরিবারের কেউ আসেননি। এমনকি নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাকও ছিল না। পরে অন্য এক রোগীর পরিবারের সহায়তায় শিশুটির জন্য কাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রায় ১০ দিন পর স্বামী হাসপাতালে এলেও নবজাতককে ঘিরে কোনো আনন্দ প্রকাশ করেননি বলে দাবি করেন নীরা। বাড়ি ফেরার মাত্র ১১ দিনের মাথায় তাকে আবার সংসারের সব কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, পূজার জন্মের প্রায় ২০ দিন পর থেকে প্রতিদিন তাকে নবজাতককে অনাথ আশ্রমে রেখে আসা অথবা হত্যা করার জন্য চাপ দেওয়া হতো। তবে একজন মা হিসেবে তিনি সেই দাবি কখনো মেনে নেননি।

অবশেষে মাত্র ২১ দিনের শিশু পূজাকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নীরা চোপড়া। সঙ্গে ছিল বড় মেয়ে এবং মাত্র ৮১ রুপি। কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ে গিয়ে বাবা-মায়ের আশ্রয়ে নতুন জীবন শুরু করেন।

মুম্বাইয়ে একটি পাঁচতারকা হোটেলে চাকরির খোঁজ করতে গিয়ে মোনা চাওলা নামে এক নারীর সহায়তায় প্রথম চাকরি পান নীরা। মাসিক ৯০০ রুপি বেতনের সেই চাকরি দিয়েই দুই মেয়েকে নিয়ে নতুন করে সংগ্রাম শুরু হয়। কয়েক বছর পর গোয়ায় আরও ভালো চাকরি পেয়ে তার মাসিক আয় বেড়ে ৬ হাজার রুপিতে পৌঁছায়, যা তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

বর্তমানে দুই মেয়ের সাফল্যে গর্বিত নীরা চোপড়া বলেন, “যদি আবার জন্ম হয়, আমি একই দুই মেয়েকেই চাই।”

শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার দিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তারা এই মেয়ের জন্য আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল। সেদিন আমি বলেছিলাম, একদিন এই মেয়েই আমাকে গর্বিত করবে। আজ সত্যিই সে আমার গর্বের কারণ।”

সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতার এই গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


Side banner
Link copied!