ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সক্ষমতার পরীক্ষা নিতে চায় তবে তার দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জেরে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু তার দেশ যে কোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত।
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় এখন ইরানের বড় এবং ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি" রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরাগচি বলেন, যদি ওয়াশিংটন আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়, যেটি তারা আগেও পরীক্ষা করেছে, আমরা এর জন্য প্রস্তুত। আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার টেবিককেই বেছে নেবে। ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনছে তাদের সতর্ক করেন তিনি।
চলমান আন্দোলন নিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়েছে। যারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০ এর বেশি সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।
যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি যাদের মধ্যে শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
আপনার মতামত লিখুন :