হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি ‘নিষিদ্ধ’ বা সীমাবদ্ধ সামুদ্রিক এলাকা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, প্রস্তাবিত এলাকাটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধরেখা থেকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বিভিন্ন বন্দরের দিক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। নতুন এই বিধিনিষেধ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রেজাইয়ের ভাষ্য, নতুন এলাকায় প্রবেশ করা জাহাজগুলোকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা মার্কিন জাহাজগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে—এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রেজাই। তার দাবি, জলপথটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
রেজাই জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় খুব কম জাহাজ চলাচল করছে। তার দাবি, আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েকটিতে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক তথ্যেও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত ১০ দিনে দৈনিক গড় চলাচল প্রায় ১০টি পণ্যবাহী জাহাজে নেমে এসেছে।
হরমুজ ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও অবরোধের প্রভাব নিয়ে রেজাই বলেন, এর কারণে ইরানে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হবে না। সরকারের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে এবং সেখান থেকে আয়ও হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তবে সামুদ্রিক উত্তেজনা যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ বাড়াচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হরমুজ অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ ও পারস্য উপসাগর এলাকায় বড় কোনো নিশ্চিত নিরাপত্তা ঘটনার খবর না থাকলেও জাহাজ চলাচলে ইরানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। ফলে কৌশলগত এই জলপথকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :