• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলছে


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলছে

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে ঠিক কোন আইনগত বা প্রশাসনিক স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

 

আমিনুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই তাকে দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়, অন্য কোনো সরকারি মর্যাদা নাকি ভিন্ন কোনো ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন—এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার তথ্য না থাকায় ভারতীয় আদালতের অনুমতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

 

সম্প্রতি ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন—এটি আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এরপর প্রত্যর্পণ বা সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থার কোন ধাপ প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করা যাবে।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান ও শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয় এক নয়।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ থেকে অপহৃত হয়ে ভারতে যান। পরে ভারতের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায় এবং সেখানকার একটি মামলায় তিনি খালাস পান। এরপর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ফলে ওই ঘটনা ও বর্তমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।

জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তার দাবি, জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায় প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশের জন্য প্রধান বিষয় হচ্ছে ভারতের সঙ্গে চলমান আইনি ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি ভারতে কোন মর্যাদায় অবস্থান করছেন, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার হলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও নির্দিষ্টভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হলে তাকে কারাগারে যেতে হবে এবং পরবর্তী আইনি সুযোগ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।


Side banner

আইন আদালত বিভাগের আরো খবর

Link copied!