• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভেসে নৌকায় ৯ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভেসে নৌকায় ৯ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১০ দিন দিকহীন অবস্থায় ভেসে থাকা একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশিসহ ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার, পানি ও জ্বালানির সংকটে নৌকাটিতে থাকা ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ার তবরুক থেকে গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিক একটি রাবারের নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। মানব পাচারকারীদের সহায়তায় তারা এই সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নৌকাটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনে চললেও এতে কার্যকর কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রীদের বলা হয়েছিল, গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু পথের মধ্যে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।

 

জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর নৌকাটি সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। প্রায় ১০ দিন পর গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে নৌকাটি পৌঁছায়। পরে স্থানীয় পুলিশ সেটির যাত্রীদের উদ্ধার করে।

উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। ১৮ জন অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের কাছ থেকে নৌযাত্রার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকে থাকার ফলে যাত্রীরা তীব্র গরম ও রোদের মধ্যে খাবার ও পানির সংকটে পড়েন। শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার কারণে ৯ বাংলাদেশি এবং একজন সুদানি নাগরিক মারা যান।

দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে মৃতদের মরদেহে পচন ধরলে জীবিত যাত্রীরা সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন বলেও আব্দুল করিম জানিয়েছেন।

 

ঘটনার পর মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হওয়ার পর মিশরের আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।


Side banner

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!