ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে একের পর এক পরিবর্তনের মধ্যে এবার আলোচনায় এসেছে দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ। ওপেনার ইমাম-উল-হককে চোট নিয়ে বিতর্কের কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের শৃঙ্খলা নিয়েও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) উদ্বেগের কথা জানা গেছে।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে পায়ের কাফে চোট পান ইমাম-উল-হক। ওই চোটের কারণে তিনি পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি এবং দ্বিতীয় ইনিংসেও মাঠে নামেননি। ম্যাচটিতে পাকিস্তান ১৯৪ রানে হেরে সিরিজও ২-০ ব্যবধানে হার নিশ্চিত করে।
ইমামের চোটের ধরন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে পিসিবি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত হয়নি।
ইমামের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের নিউজিল্যান্ড সফরের একটি পুরোনো ঘটনাও নতুন করে সামনে এসেছে। পিসিবির একটি তদন্ত কমিটির অভিযোগ ছিল, চোটের উপসর্গ তিনি অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন এবং চিকিৎসা দলের সদস্যদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।
সেই তদন্তে তাকে পাকিস্তানের হয়ে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশও করা হয়েছিল বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে জিও নিউজ। এবার লর্ডসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন তদন্তে ওই পুরোনো বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ রিজওয়ানের শৃঙ্খলা নিয়েও পিসিবির ভেতরে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তাকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে নিকট ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কোনো দলে তার অন্তর্ভুক্তি নাও হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ইংল্যান্ড সিরিজে রিজওয়ান ও ইমামের দলে অন্তর্ভুক্তির কারণ নিয়েও নির্বাচকদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল পিসিবি।
লর্ডসে হারের পর তৃতীয় ও শেষ টেস্টের দল থেকে রিজওয়ান, ইমামসহ কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের পাশাপাশি পাকিস্তানের কোচিং ও নির্বাচক কাঠামোতেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট ৯ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামের এজবাস্টনে হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে ইমাম ও রিজওয়ানের সামনে এখন বড় অনিশ্চয়তা। তবে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তি বা ভবিষ্যৎ দলে ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও পিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে।
আপনার মতামত লিখুন :