শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে জেলেদের কাছ থেকে বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি ও গণডাকাতি করছে চাঁদপুর, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পুলিশ বলে জানিয়েছে জেলেরা। প্রতিমাসে ২ হাজার জেলেদের জম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা নৌ-পুলিশ ফাঁিড়। এর প্রতিবাদে শরীয়তপুর জেলা মৎস্যজীবী দল ও সাধারণ জেলেরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। চাদঁপুরের নৌ- পুলিশ সুপার বলছেন, তারা অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরতে চায় আমরা বাধা দেই। তারা কারেন্ট জালের বিষয়ে সরকারের অনুমতি নিয়ে আসলে আমরা বাধা দিব না।
সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সরোয়ার হোসেন মোল্লা ও স্থানীয় জেলেদের সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দুলারচর এলাকার প্রায় ১ হাজার, নড়িয়া উপজেলার শুরেশ^র এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক, সখিপুর এলাকার প্রায় ৬ শতাধিক জেলে প্রতিদিন পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সেখানে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে চাদঁপুর নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ, শরীয়তপুরের নর সিংহপুর নৌ-পুলিশ ফাড়ির সদস্যরা জেলেরা নদীতে নামলেই তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে তাদের বিরোদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রাতে জেলেদের নৌকায় গনহারে ডাকাতি ঘটনাও ঘটে। এ আতংকে অনেক জেলেরা মাছ ধরতে নদীতে নামে না।
চাঁদপুর ও মোহনপুর, নরসিংহপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মৎস্যজীবী দল এবং সাধারণ জেলেদের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুলারচর নদীর পাড় লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক জেলে এক বিক্ষোভ মিছিল, মানব বন্ধন কর্মসূচী ও সংবাদ সম্মেলন করেছে।
জেলে মোঃ সোহেল মোল্লা বলেন, পদ্মা নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে গেলে চাঁদপুর, মোহনপুর ও নরসিংহপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে। রাতে তারা মূখোশ পড়ে ছদ্মবেশে গনহারে ডাকাতি করে। যার কারণে আমাদের শত শত জেলেদের জীবিকা প্রায় বন্ধ।
জেলে মজিবর মিয়া, স্বপন ফকির বলেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নীতিমালা অনুযায়ী পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা সাধারণ জেলেরা চাঁদপুর, মোহনপুর ও নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছি। এমনকি তাদের কথামতো চাঁদা না দিলে বৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে আমরা জেল জরি মানায় পড়তে হচ্ছে। রাতে তারা জেলেদের নৌকায় গন-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। আমাদের ধারনা নৌ-পুলিশ ফাড়ির সদস্যরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এখন আমরা সাধারন জেলেরা দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে চাই।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা যুবদলের অর্থ সম্পাদক মাসুদ করিম ও জেলে হযরত আলী মিয়া বলেন, গত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগের আমলে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌ পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়েছে। সরকার পতন হলো নতুন এক সরকার আসলো বিএনপি সরকারের আমলে ও নৌ-পুলিশকে চাঁদা দিয়ে মাছ ধরতে হচ্ছে। তাদের কথামতো চাঁদা না দিলে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা আটক থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত জেল জুলুমের শিকার হচ্ছি। পুলিশকে টাকা দিলে চায়না অবৈধ জাল বৈধ হয় আর চাঁদা না দিলে বৈধ জাল অবৈধ হয় ।
নরসিংহপুর নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ ইয়াসিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা এ ধরনের কাজ করিনা।
চাদপুরের মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ কে একাধিক ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাদাঁবাজি ও ডাকাতির বিষয়ে অস্বীকার করে চাদঁপুর নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, আমরা জেলেদের কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেই না। আপনারা বলবেন তারা যেন সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন নিয়ে আসে। তা হলে আমরা আর তাদেও বাধা দিব না।
আপনার মতামত লিখুন :