সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ আলম হাসান সম্প্রতি পঞ্চম বিয়ে করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তবে তাঁর ৫ম স্ত্রী আরনিয়ার অতীত জীবন নিয়ে উঠে এসেছে বহু চাঞ্চল্যকর গল্প। কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের সেন্টু মিয়ার বড় মেয়ে হলেন এই আরনিয়া। তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরিবারে আরনিয়া ও করনিয়া নামের দুই বোন থাকলেও কোনো ভাই নেই। ছোট বোন করনিয়ার বিয়ে হয়েছে বগুড়ায় এবং তিনি বেশ সুন্দরভাবে সংসার করছেন।
আরনিয়ার প্রথম ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল এলাকার লাবিব নামের এক যুবকের সাথে। কিন্তু লাবিব বেকার হওয়ায় আরনিয়ার পরিবার তাঁকে অন্য এক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। নতুন জায়গায় গিয়ে আরনিয়া মন টেকাতে পারেননি। মাত্র তিন মাসের মাথায় সেখানে প্রথম বিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর আরনিয়ার পরিবার লাবিবকে মেনে নিয়ে তাঁদের আবার বিয়ে দেয়। লাবিবের পরিবার এই বিয়ে মেনে না নেওয়া বেকার লাবিবকে আরনিয়াদের বাড়িতেই ঘরজামাই করে রাখা হয়। সেখানে থেকেই তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। এর মাঝে প্রবাসে যাওয়ার সময় শশুর লাবিবের মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে দিলে পারিবারিক কোন্দল শুরু হয়।
পরবর্তীতে লাবিবের কথা না শোনা এবং পরপুরুষের সাথে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে সংসারে আবার ফাটল ধরে। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো লাবিবের সাথে আরনিয়ার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে বিয়ে না হওয়ায় পরবর্তীতে পরিবার বুঝিয়ে লাবিবকে নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেয় এবং আবারও তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়।
সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আলম হাসানের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করে আরনিয়া একপর্যায়ে পালিয়ে যান এবং লাবিবকে ডিভোর্স দিয়ে দেন।
অন্যদিকে একাধিক বিয়ে করে আলোচনায় থাকা আলম হাসানের ইতিহাসও কম বিতর্কিত নয়। তিনি এক এক করে মোট পাঁচটি বিয়ে করেছেন। তাঁর প্রথম স্ত্রীর ঘরে ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তিনি আরনিয়ার জন্য একটি প্রসাধনীর দোকান খুলে দিয়েছেন, যা তাঁরা দুজনে মিলে পরিচালনা করছেন।
জটিল অতীত পেরিয়ে আসা আরনিয়া এবং বহুবিবাহে অভ্যস্ত আলম হাসানের এই নতুন সংসার শেষ পর্যন্ত কতদিন টিকে থাকে, তা নিয়ে পুরো এলাকায় চলছে মুখরোচক আলোচনা।
আপনার মতামত লিখুন :