ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুল, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামের এক নারী মামলাটি করার আবেদন করেন। বাদীর বক্তব্য শোনার পর আদালত বিষয়টি আদেশের জন্য রাখেন। পরে মামলা গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুল, রেজওয়ানা হাসান, শফিকুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সার্জিস আলম ও সামান্তা শারমিনসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত, উসকানি ও সহযোগিতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা চালায়।
আবেদনে বলা হয়, ওই সময় ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সেখানে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন, নথিপত্র, বই ও মূল্যবান সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এবং লুট করা হয়।
পরবর্তীতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয় বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই কার্যক্রম পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত চলেছিল বলে বাদীপক্ষ উল্লেখ করেছে।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অভিযোগ গ্রহণের আবেদন করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করা হয়েছিল।
তবে মামলার আবেদন ও বাদীর বক্তব্য পর্যালোচনার পর আদালত অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রাথমিক উপাদান পাননি। ফলে আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :