ঢাকার সাভারে ৯ বছরের শিশু মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি সাভার মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন এবং দুই ব্যক্তিকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে-মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করল, আর মৃত্যুর পর তার মায়ের ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তাধীন। শিশুটির মৃত্যুকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করা হবে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
৯ বছরের শালমীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন:
মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডল (৯) আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকার মর্নিং গ্লোরী স্কুলের বাংলা ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়। তার মা মৌসুমী আক্তার কর্মস্থল ঢাকার আজিমপুর সিভিল সার্জন অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন এবং শালমী আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকায় অবস্থিত স্কুলে যায়। স্কুল শেষে অন্যান্য দিনের মতো শিশুটি তার মায়ের বর্তমান বাসায় ফিরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির বাবার কাছে আসে তার মৃত্যুর সংবাদ। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ মার্গারেট দুলি ফোন করে শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলকে জানান, তার মেয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মারা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাবা।
মরদেহ দেখে বাবার সন্দেহ: রিপন মন্ডলের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিশুটির গায়ে স্কুল ড্রেস ছিল। তবে নিচের অংশে পাজামা ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেয়ের শারীরিক অবস্থা এবং ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয় বলে দাবি করেন রিপন। তার সন্দেহ, তার মেয়েকে কোনো কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করা হতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
‘৯ বছরের শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করে?’
শিশুটির বাবার অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও এখন সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো-মাত্র ৯ বছরের একটি শিশু কেন এবং কীভাবে আত্মহত্যা করবে? তবে বয়স কম হওয়া আত্মহত্যাকে অসম্ভব করে না; আবার শুধু বয়সের ভিত্তিতে এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যা-কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। শিশুটি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে কী ধরনের আলামত পাওয়া গেছে-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাই দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে না দেখে গভীরভাবে তদন্ত করা হোক।
মায়ের নতুন সম্পর্ক ও বিয়ে ঘিরে প্রশ্ন: অভিযোগপত্রে শিশুটির বাবা তার সাবেক স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরবর্তী বিবাহ নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। রিপন মন্ডলের দাবি, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে মৌসুমী আক্তার তাকে তালাক দেন। এরপর তার সঙ্গে ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে মৌসুমী আক্তার ও ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে এই সম্পর্ক বা পরবর্তী বিয়ের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে শিশুটির বাবা যেহেতু তার অভিযোগে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের পারিবারিক পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
‘মৃত্যুর পরও কেন এই প্রশ্ন?’
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক স্ত্রী পরবর্তীতে অন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ কারণে সামাজিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে-শিশুটির সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে শিশুটির পারিবারিক পরিবেশ কেমন ছিল এবং ওইদিন বাসায় ঠিক কী ঘটেছিল? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান বা সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
থানায় এজাহার, এখনো মামলা হয়নি-অভিযোগ: শিশুটির বাবা রিপন মন্ডল সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে লিখিত এজাহার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, এত গুরুতর একটি ঘটনার পরও পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মেডিকেল থেকে আসার পর সেটি পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে এখন সবার নজর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ শালমী মন্ডলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও আলামত যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে-তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের তথ্য তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে শুধু পোস্টমর্টেম রিপোর্টই নয়, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শিশুটির স্কুলে উপস্থিতি ও ছুটির তথ্য, বাসায় ফেরার সময় এবং মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সেখানে ছিলেন-সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তে সামনে আসতে পারে আরও তথ্য: ঘটনাটি তদন্ত করতে হলে ১৮ আগস্ট সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুটির গতিবিধির একটি পূর্ণাঙ্গ টাইমলাইন তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে কখন স্কুলে পৌঁছায়, কখন স্কুল ছুটি হয়, কার সঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়, কখন বাসায় ফিরে আসে এবং বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কারা ছিলেন- এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। মৃত্যুর আগে শিশুটির সঙ্গে কারও ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, কোনো মেসেজ বা ডিজিটাল যোগাযোগ ছিল কি না-প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থার নজরে ঘটনাটি: শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পর বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংগঠনের নজরেও এসেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার সংবাদ ও সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রনি শিকদার জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য যতটুকু করার প্রয়োজন, ততটুকু করব আমরা। আমরা তদন্তে আছি।” রনি শিকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত সহযোগিতার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।
হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা: মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছে। জনস্বার্থে বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা। তবে আদালতে যাওয়ার বিষয়টি এখনো একটি সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।
‘শিশুটির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই’
শিশুটির পরিবারের দাবি, তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তারা চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।
যদি তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুটি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল এবং তার পেছনে কোনো প্ররোচনা, নির্যাতন বা পারিবারিক কারণ ছিল কি না-সেটিও তদন্তে উঠে আসুক। পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যেন কোনোভাবেই আড়ালে না থাকে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি শালমী মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রয়েছে-
১. ৯ বছরের শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী?
২. মৃত্যুর আগে সে কার সঙ্গে ছিল?
৩. স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল?
৪. মৃত্যুর সময় বাসায় কারা উপস্থিত ছিলেন?
৫. শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না?
৬. ঘটনাস্থল থেকে কী কী আলামত উদ্ধার করা হয়েছে?
৭. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না?
৮. স্কুল থেকে শিশুটির ফেরার সময় ও পথের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না?
৯. শিশুটির মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না?
১০. ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ কী উল্লেখ করা হয়?
১১. অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র তদন্তে পাওয়া যায় কি না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।
অভিযোগ বনাম প্রমাণ-তদন্তই নির্ধারণ করবে সত্য: শিশুটির বাবা যে অভিযোগ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে গুরুতর। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। বিশেষ করে শিশুটির মায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিবাহ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা-এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য নির্ধারণের জন্য আবেগ নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। এখন নজর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের দিকে সাভারে ৯ বছরের স্কুলছাত্রী শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখন পরিবারের দাবি, পুলিশের বক্তব্য এবং মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগ-তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।
পরিবার চাইছে ন্যায়বিচার।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মানবাধিকার সংগঠন বলছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর তদন্ত কোন দিকে যায়, পুলিশ মামলা গ্রহণ করে কি না এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা আলামত বেরিয়ে আসে কি না-সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। একটি ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু যেন কোনোভাবেই অমীমাংসিত না থাকে-এটাই পরিবারের প্রধান দাবি।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত হত্যা, সম্পর্ক, বিবাহ ও অন্যান্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বক্তব্য ও থানায় দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো কোনোভাবেই প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। এই সংবাদ ধারাবাহিক চলব........।
আপনার মতামত লিখুন :