মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র সরবরাহে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে।
রোববার (৩ মে) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে। এতে তাদের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই সহায়তা দিতে উদ্যোগী হয়েছে।
এই অস্ত্র চুক্তির আওতায় ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিভিন্ন ধরনের উন্নত সামরিক সরঞ্জাম পাবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্র ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং আধুনিক কমান্ড সিস্টেম।
ইসরায়েলের জন্য প্রায় ৯৯২ মিলিয়ন ডলারের উন্নত প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম সরবরাহ করা হবে। কুয়েত পাবে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম, যা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে।
অন্যদিকে কাতার প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পুনরায় মজুদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্যও এ ধরনের অস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিক্রিগুলো জরুরি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ কারণে প্রচলিত কংগ্রেসীয় পর্যালোচনার প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :