• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে নিহত ৩০, চাপা পড়েছে বসতিও


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে নিহত ৩০, চাপা পড়েছে বসতিও

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে প্রবল বৃষ্টির পর ময়লার ভাগাড়ের একটি বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।

রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতের এ দুর্ঘটনা ঘটে কোনাক্রির গবেসিয়া এলাকায়। স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে বর্জ্যের বড় একটি স্তূপ হঠাৎ ধসে আশপাশে থাকা তাঁবু ও অস্থায়ী ঘরগুলো চাপা পড়ে। এতে ঘুমন্ত মানুষজন ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়েন।

 

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। ধসে পড়া বর্জ্য সরাতে খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানেও তৎপরতা চালাচ্ছেন কর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ধসে পড়া ময়লার স্তূপের আকার এত বড় ছিল যে এর নিচে বড় কোনো স্থাপনাও চাপা পড়তে পারত।

দুর্ঘটনায় পরিবারের পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন সাইরে দিয়ালো নামে এক নারী। ঘটনাস্থলে তিনি সন্তান হারানোর শোক প্রকাশ করেন।

 

মর্মান্তিক ঘটনাটির মাত্র কয়েক দিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়টি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল গিনি সরকার। দেশটির আঞ্চলিক প্রশাসনমন্ত্রী জেনাব তোরে গত বৃহস্পতিবার জানান, ভাগাড়টি বন্ধ করে রাজধানীর বাইরে বর্জ্য স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই দুর্ঘটনা ঘটায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

দুর্ঘটনার পর কোনাক্রির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ। তিনি ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং উদ্ধারকারী দল ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

পশ্চিম আফ্রিকার ঘনবসতিপূর্ণ ও অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল অনেক এলাকায় বর্ষাকালে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কোনাক্রিতেও প্রবল বৃষ্টির পর ময়লার স্তূপ ধসে পড়ার ঘটনায় সেই ঝুঁকিই সামনে এসেছে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ গিনিতে দারিদ্র্য ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় সমস্যা। দেশটিতে বিপুল বক্সাইটের মজুত রয়েছে এবং সিমানদু অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য লৌহ আকরিকের সম্পদ রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বড় একটি অংশের মানুষ এখনও সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

ময়লার ভাগাড় বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী এই ধসের ঘটনায় গিনির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস এবং নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।


Side banner
Link copied!