• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় গৃহায়ণে মোস্তফা হোসেন ফুয়াদ ও অলিউল ইসলাম এর ক্ষমতার উৎস ঘিরে প্রশ্ন?


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:১৭ এএম
জাতীয় গৃহায়ণে মোস্তফা হোসেন ফুয়াদ ও অলিউল ইসলাম এর ক্ষমতার উৎস ঘিরে প্রশ্ন?

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং অভিযোগ থাকা সত্বেও নিদৃষ্ট  কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন সহ গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহনকারী সাধারন মানুষের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন সহ গুরত্বপূর্ণ কাজ দেওয়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যন ফেরদৌসী বেগম এর অধিনস্থ  প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এক অফিস আদেশে (স্মারক নং:২৫.৩৮.০০০০.৩০২.১৯.০১৭.২৪) ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশটি প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকার খবর প্রকাশিত হয়। 


খোজ নিয়ে জানা যায়, সদ্য বদলী আদেশে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে যাদের মধ্যে কেউ কেউ মাত্র ছয় মাস আগে ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সুস্পষ্ট প্রশাসনিক প্রয়োজন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আবার বদলি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে নিদৃষ্ট কিছু মানুষকে সুবিধা দেওযার জন্য  এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উক্ত বদলি আদেশ বাস্তবায়নে প্রচুর টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে লোকমুখে জানা যায়।

এছাড়া প্রকৌশল শাখায় ড্রাফটসম্যানের সংকট থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শাখায় বদলী বা সংযুক্ত না দিয়ে মোঃ হানিফ মিয়াকে ভূমি শাখায় সংযুক্ত দেওয়া হয়। অথচ যেখানে ড্রাফট্সম্যানের কোন কাজ নেই, শুধু বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই পদায়ন কিনা প্রশ্ন জাগে? আর এই প্রশ্নের খোজ করেত গিয়ে জানা যায়, গত ২৭/০৭/২০২৬ ইং তারিখে স্মারক নং – ২৫.৩৮.০০০০.৫০০.২৫.০০১.১৯ (অংশ-১)-৪১৫৬/১(৫) এর মাধ্যমে মিরপুর ১৩ ও ১৪ নাম্বার সম্পূর্ণ  এবং রুপনগর আবাসিক স্যাটেলাইট সিটির কাজ ড্রাফটসম্যান হানিফ মিয়াকে প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে হানিফ মিয়াকে স্থাপত্য শাখায় ফেরত পাঠানো হয়।

কিন্তু বহাল তবিয়তে আছে মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ । তার বিরুদ্ধে সরকারি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় ও পল্লাবী থানায় ফৌজদারী মামলা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তিনি দোষ স্বীকার করে অর্থ ফেরত দেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করে চাকরিতে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বোর্ড সভার নেগেটিভ সিদ্ধান্তেকে পজিটিভ করে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ খন্দকার তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করেছিলেন। এত এত গুরতর অভিযোগ থাকা সত্বেও মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ কে সদ্য বদলী আদেশে ভূমি শাখায় পদায়ন করা হয় এবং স্মারক নং – ২৫.৩৮.০০০০.৫০০.২৫.০০১.১৯ (অংশ-১)-৪১৫৬/১(৫) এর মাধ্যমে মিরপুর ৬ নাম্বার, গৃহ সূচনা, লালমাটিয়া ১২০ ফ্ল্যট প্রক্লপ ও দিনাজপুর ডিভিশন এর মত গুরত্বপূর্ন দায়িত্ব দেয়ায় আবারো প্রশ্ন জাগে প্রশাসন নিরব কেন। 
প্রশ্নের উত্তর খুজতে জাগৃক ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে বিভিন্ন ভাবে কথা বলে জানা যায় ড্রাফটসম্যান হানিফ মিয়া ও  মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ দুজনেই জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ভবনের সাত তলার স্থাপত্য শাখায় কর্মরত ছিলেন। ভবনের সাত তলায় প্লানিং শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামের সাথে ড্রাফটসম্যান হানিফ মিয়া ও  মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের সাথে সখ্যতা ছিল। এই বদলীর সকল প্রকার লেনদেন নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামের মাধ্যমে সম্পাদন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানা যায় নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামে যিনি চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের আস্থাভাজন হিসেবে স্বীকৃত, অফিস চলাকালীন সময়ে সার্বক্ষনিক চেয়ারম্যান দপ্তরে উপস্থিত থাকা এবং চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের সাথে মন্ত্রণালয়ে সরকারী গাড়ীতে যাওয়া আসা প্রমান করে তিনি চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের আস্থাভাজন। নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম, ড্রাফটসম্যান হানিফ মিয়া ও  মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের ভূমি শাখায় পদায়ন ও গুরত্বপূর্ণ কাজ পাইয়ে দেয়ায় ভূমিকা রাখেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামের বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি দুদক কর্তৃক দুর্নীতির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মো. অলিউল ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী প্লানিং এর  চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের অনুমোদনে। তথ্যমতে চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম এবং সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আলমগীর হোসাইনের সময়ে প্রকাশিত কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রমে অলিউল ইসলামকে সম্পৃক্ত করা হয়। তাদের দাবি, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে। নিয়োগ চলাকালীন সময়ে অলিউল ইসলামের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।  


এ বিষয়ে জানতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম মতামত জানার জন্য  মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও  যোগাযোগ সম্বভ হয়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ, মো. হানিফ মিয়া, মো. অলিউল ইসলাম, এবং সাবেক সদস্য প্রশাসন মো. আলমগীর হোসাইনের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, যত নিউজ হোক এদের কেউ কিছু করতে পারবেনা। বর্তমান পূর্ত সচিব, পূর্ত মন্ত্রী মহোদয় যদি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।


Side banner
Link copied!