• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

নুসরাত হত্যা মামলার রায় আজ, সোনাগাজীতে বাড়তি নিরাপত্তা


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:৫০ এএম
নুসরাত হত্যা মামলার রায় আজ, সোনাগাজীতে বাড়তি নিরাপত্তা

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে নুসরাতের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

হাইকোর্টে রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে নুসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজীতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, আগে নুসরাতের বাড়িতে নিয়মিত দুইজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। রায়কে কেন্দ্র করে সেখানে আরও সাতজন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হুমকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রায় ঘিরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানিয়েছেন, তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন। রায় ঘোষণার সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও বাড়তি নিরাপত্তায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।

 

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকেও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করা হয়। এসব আবেদন ও ডেথ রেফারেন্সের ওপরই হাইকোর্টে শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

২০১৯ সালের মার্চে নুসরাতের মা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন। অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে একটি ভবনের ছাদে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নুসরাতের ভাই থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং বিচার শেষে নিম্ন আদালত তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

 

হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিল নিয়ে আদালতে মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি হয়েছে। ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হওয়ার পর ২৪ আগস্ট রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নুসরাতের পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় মানুষ। নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি আসামিদের সাজায় কোনো পরিবর্তন আসবে—আজকের রায়েই তার নিষ্পত্তি হবে।


Side banner
Link copied!