রাজধানীর বনানী থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেন। শুনানির সময় কারাগার থেকে আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়।
আনিসুল হকের আইনজীবী সুমন হোসাইনের বক্তব্য অনুযায়ী, তার মক্কেলের নামে একটি বৈধ পিস্তলের লাইসেন্স ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ওই অস্ত্রের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে যায়।
বর্তমানে হারানো নথির ডুপ্লিকেট সংগ্রহের চেষ্টা চলছে জানিয়ে আসামিপক্ষ চার্জ গঠনের শুনানির জন্য সময় চায়। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আনিসুল হকের নামে বনানী থানার আওতায় একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিসুল হক ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত তার লাইসেন্স করা অস্ত্র থানায় জমা দেননি এবং এ বিষয়ে থানাকেও অবহিত করেননি।
তদন্তে তার ঠিকানায় গিয়ে অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নামে গুলি কেনার তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
অস্ত্র জমা না দেওয়ার ঘটনায় বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. জানে আলম দুলাল বাদী হয়ে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াদুল হক আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এখন আসামিপক্ষের আবেদনের কারণে অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট নৌপথে রাজধানী থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :