• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য স্রষ্টা। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করছে দেশবাসী।

 

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনও কবির স্মরণে পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে।

 

কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।

তার লেখায় শোষণ, বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা শক্তভাবে উঠে এসেছে। এ কারণেই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত হলেও তার সৃষ্টির ব্যাপ্তি ছিল আরও বিস্তৃত।

 

নজরুলের সৃষ্টিশীল সময়কাল তুলনামূলকভাবে স্বল্প হলেও এই সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে ব্যাপক বৈচিত্র্য এনেছেন। কবিতার পাশাপাশি অসংখ্য গান রচনা করেছেন তিনি, যা আজও বাংলা সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধের পাশাপাশি সাংবাদিকতা, অভিনয় ও সংগীতচর্চাতেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র প্রতিভার পরিচয় দেন। তার সৃষ্টিতে জাগরণ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানবমুক্তি এবং সাম্যের বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নজরুলের কবিতা ও গান স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিরোধের চেতনাকে উজ্জীবিত করার অন্যতম সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তার অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চিন্তা বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে।

 

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এক বিশেষ সমাবর্তনে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। একই বছর তিনি একুশে পদকেও ভূষিত হন।


Side banner
Link copied!