আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন আরও জোরদার হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৮১৪ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। আর চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, বরং পরিবারকে কেন্দ্র করেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং পরিবারে নারীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ জেলায় ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে এ কর্মসূচি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্ডধারীদের আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের আওতায় থাকা প্রত্যেক উপকারভোগী মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। তবে এ সংক্রান্ত মোট বাজেট সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে, ফলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
এ সময় কৃষকদের জন্য নেওয়া অন্যান্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
তবে শ্রমিকদের জন্য আলাদা কোনো কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সব মিলিয়ে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :