ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ১১ দফা কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
বুধবার অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভূমি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণসহ একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মন্ত্রী জানান, ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করায় দালালদের হস্তক্ষেপ কমেছে। আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এসএমএসের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাকে অবহিত করা হচ্ছে, ফলে অনিয়মের সুযোগ কমেছে।
এছাড়া অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর চালুর মাধ্যমে নগদ লেনদেন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নাগরিকরা এখন এনআইডি ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে কর পরিশোধ করতে পারছেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন চালু করা হয়েছে। অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভূমিসেবা হটলাইন (১৬১২২) চালুর মাধ্যমে ঘুষ বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি জানানো যাচ্ছে। এই হটলাইন ২৪ ঘণ্টা চালু থেকে অভিযোগ তদারকি করছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ আধুনিকায়ন, নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন, ই-পর্চা ও ভূমি অ্যাপ চালু, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও লিজ সংক্রান্ত সফটওয়্যার উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমি খাতে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :