• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: টিয়ারশেল নিক্ষেপ


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মিরপুরে  শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: টিয়ারশেল নিক্ষেপ

রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী হলো, যেখানে পোশাক শ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাস্তায় নেমে এসে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রবিবার (১লা নভেম্বর)সকাল থেকেই হাজার হাজার শ্রমিক বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে চরম আকার ধারণ করে।

পোশাক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া এবং যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের সামান্য মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিটি তাদের কাছে জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো এই দাবি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে, কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় তারা বারবার রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা বাড়ার সাথে সাথে শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং তারা মিরপুর-১০ গোলচত্বর সম্পূর্ণ অবরোধ করে ফেলে। এতে মিরপুর এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় এবং অবরোধ চালিয়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

পুলিশের এই চেষ্টাকে প্রতিহত করতে গিয়ে শ্রমিকরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। গোলচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। এসময় অনেক শ্রমিককে দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা যায়। কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানা যায়, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এই সংঘর্ষের ফলে মিরপুর-১০ এবং এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী কর্মীদের চরম দুর্গতি পোহাতে হয়। পুরো এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মোতায়েন করা হয়।

প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। বিক্ষিপ্তভাবে শ্রমিকদের ছোট ছোট দল বিভিন্ন গলিপথ থেকে বেরিয়ে এসে স্লোগান দিচ্ছিল এবং পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। শ্রমিক নেতারা বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার ও মালিক পক্ষকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে শ্রমিকদের দাবি পূরণ হয় এবং একইসাথে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত না হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।


Side banner
Link copied!