জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের কুরাশী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের মধ্য গোলমাইজ গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান খান ও একই এলাকার সাত্তার খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে শাহজাহান খান বাদী হয়ে সাত্তার খানসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার হাজিরা দিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর আদালতে যান সাত্তার খান ও তার পরিবারের সদস্যরা। আদালতের কার্যক্রম শেষে তারা অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সদর পৌরসভার প্রেমতলা এলাকার কুরাশী নামক স্থানে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা অটোরিকশা থামিয়ে প্রথমে কোলে থাকা শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে রাব্বী (১৩), হাসান খান (২৪), মরিয়ম বেগম (৫০), ছাত্তার খান (৫৬), সাদিয়া বেগম (২১), শান্তা (২৩) এবং অটোরিকশা চালক মামুন মিয়া (৩০) গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা আহতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পালং মডেল থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ছাত্তার খান, মরিয়ম বেগম ও হাসান খানের মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আহত ছাত্তার খানের ভাগ্নি নিলুফা ইয়াসমিন বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে কয়েকদিন ঘোরাঘুরির পর শরীয়তপুরের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
নিলুফা ইয়াসমিন জানান, আদালত থেকে ফেরার পথে কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা শিশুদেরও আঘাত করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করা হয়।
আহত ছাত্তার খান বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং চিকিৎসকেরা সেখানে সাতটি সেলাই দিয়েছেন। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজাহান খান বলেন, ওই ঘটনায় শুধু তার পক্ষ থেকে হামলা হয়নি, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তার ছেলে শফিক খানও আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার কবির বলেন, অভিযোগপত্রে কিছু ভুল থাকায় তা সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছিল। পরে তারা আর থানায় যোগাযোগ করেননি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। এখন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :