• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীয়তপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ


FavIcon
নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুরঃ
প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
শরীয়তপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের নমকান্দি এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন ছোট ভাইয়ের পৈতৃক সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বড় ভাই এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের নামে থাকা জমি এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই সম্পত্তির অংশ বিক্রি করার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও মামলার নথি পর্যালোচনায় এ অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। পরে সম্পত্তি ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন মিজানুর রহমান।

মামলার নথি অনুযায়ী, নশাসন মৌজার ৬০৬ নম্বর বিএসআরএস খতিয়ানের ৩৫০৬ নম্বর দাগে বাড়ির ৫৯ শতাংশ এবং ৩৫০৮ নম্বর দাগে পুকুরের ২০ শতাংশসহ মোট ৭৯ শতাংশ জমি দুই ভাই এমদাদ হোসেন ও মিজানুর রহমানের নামে রেকর্ড হয়। অংশ অনুযায়ী প্রত্যেকের নামে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ করে জমি রেকর্ডভুক্ত হয়।

এ ছাড়া ৩৫৫ নম্বর খতিয়ানের ১১০৫ নম্বর দাগে ৪০ শতাংশ বাড়ি, ১১০৬ নম্বর দাগে ৩৮ শতাংশ এবং ১১০৭ নম্বর দাগে ১১ শতাংশসহ মোট ৮৯ শতাংশ জমি একাধিক মালিকের নামে রেকর্ড হয়। এর মধ্যে এমদাদ হোসেনের নামে ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং মিজানুর রহমানের নামে ২০ দশমিক ৬৪ শতাংশ জমি রেকর্ড করা হয়। দুই খতিয়ান মিলিয়ে মিজানুর রহমানের নামে মোট ৬০ দশমিক ১৪ শতাংশ জমি রেকর্ড থাকার কথা মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের আগস্টে এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিলের মাধ্যমে মিজানুর রহমানের নামে থাকা ৬০৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ জমি এমদাদ হোসেন নিজের নামে নেন। একই দলিলের মাধ্যমে এমদাদ হোসেনের নামে থাকা ৩৫৫ নম্বর খতিয়ানের ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ জমি মিজানুর রহমানের নামে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ দলিলের নম্বর ২১১০।

পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ৩৫৫ নম্বর খতিয়ানে এমদাদ হোসেনের নামে কোনো সম্পত্তি না থাকার পরও ২০১৪ সালের নভেম্বরে ওই খতিয়ানের জমির অংশ থেকে খোরশেদ আলম মুন্সির কাছে ৪ শতাংশ এবং মো. জনু মুন্সির কাছে ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া মিজানুর রহমানের নামে রেকর্ড থাকা জমিও বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, ১৯৯৩ সালের এওয়াজ বদল দলিলের বিষয়টি দীর্ঘ সময় তাদের অজানা ছিল। প্রায় ৩০ বছর পর বিষয়টি জানার পর ২০২৪ সালে মিজানুর রহমান দলিল নম্বর ২১১০ বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করেন। মিজানুর রহমান মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বর্তমানে তার স্ত্রী হালিমা বেগম মামলাটি পরিচালনা করছেন।

হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর সরলতার সুযোগ নিয়ে বড় ভাই দীর্ঘদিন আগে এওয়াজ বদল দলিলের মাধ্যমে তাদের ভিটাবাড়ি ও পুকুরসহ সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন এবং তার স্বামী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি।

মিজানুর রহমানের মেয়ে নাজমুন নাহার বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারা নিজেদের সম্পত্তি নেই বলে জানতেন। তার দাবি, পরে তারা জানতে পারেন পুরোনো বাড়িতে তার বাবার নামে জমি রেকর্ড রয়েছে। সেই জমির অংশ থেকে ১০ শতাংশ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবি জানান নাজমুন।

অভিযোগের বিষয়ে এমদাদ হোসেন বলেন, এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিল সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। ১৯৯৩ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং তার বাবা তখন নড়িয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিলেন। বাবার ডাকে তিনি নড়িয়ায় গিয়ে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একটি কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে জানান তিনি।

এমদাদ হোসেন আরও বলেন, ওই দলিল কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তার বাবা ভালো বলতে পারবেন। তবে ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি বিক্রি করে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সম্পত্তির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং অভিযোগের সত্যতা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


Side banner
Link copied!