রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হলে ভোটের মাধ্যমে মত প্রকাশের সুযোগ থাকে না। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতেই তাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে চান। এজন্য অবাধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর দাবি, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি বিএনপির যে দ্বৈত অবস্থান রয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চায় জামায়াত।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে জনগণের মতামতের আরও কার্যকর প্রতিফলন ঘটত। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর কারণে সংসদ সদস্যরা সব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে মত বা ভোট দিতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হলে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অবাধ ও সুস্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে।
আগামী ২০ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। বিএনপিও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন ও ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :