• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশায় নতুন আইনের প্রস্তুতি


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশায় নতুন আইনের প্রস্তুতি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি রিকশার ফিটনেস, ব্যাটারি চার্জের উৎস, চলাচলের রুট ও জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হবে ব্যাটারি চার্জের জন্য সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট রিকশাকে নিবন্ধন বা নিবন্ধন নবায়নের সুযোগ না দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো এই শর্ত বাস্তবায়ন ও তদারকিতে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।

 

নতুন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিবর্তে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের ভিত্তিতে বর্তমানে বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। এতে রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন ফি নির্ধারণের পাশাপাশি নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো স্পষ্ট করা হবে।

 

নিবন্ধন ও নবায়নের আগে রিকশার ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগের মাধ্যমে যানবাহনের কারিগরি সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

ফিটনেস পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সনদ সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দেওয়ার পর নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। এক বছর পর নিবন্ধন নবায়নের সময়ও নতুন ফিটনেস সনদ দেখাতে হবে।

 

রাজধানীতে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনে চারটি করে মোট আটটি জোন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে একটি জোনে নিবন্ধিত রিকশা যেন অনুমোদন ছাড়া অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে।

এ জন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

 

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা কোন কোন রুটে চলতে পারবে এবং কোন এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট রিকশার বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে একটি নিয়ন্ত্রিত নিবন্ধন ব্যবস্থার মধ্যে এনে নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার এবং নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিধিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে এর খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। অনুমোদনের পর নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত জানানো হবে।


Side banner
Link copied!