টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছিয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৩০টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকেই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি পৌরসভার মধ্যমপাড়া, মাস্টারপাড়া, মুসলিম ব্লক, হাজীপাড়া, এফ ব্লক ও পূর্ব লাইল্যাঘোনা এলাকা। পাশাপাশি সাজেক, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী, রূপকারী, খেদারমারা, সারোয়াতলী, আমতলী ও বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় পুরো জেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ১৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু বাঘাইছড়ি উপজেলাতেই প্রায় আড়াই হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৯৭টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের মাটি সড়কে পড়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে, দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পাঁচ শতাধিক পর্যটক দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে আটকা পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রেণি কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাপ্তাইয়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে বিজিবির উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার রাতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :