• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশে বিচারাধীন মামলা ৪৬ লাখের বেশি, জট কমাতে নতুন পদক্ষেপের কথা জানালেন আইনমন্ত্রী


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
দেশে বিচারাধীন মামলা ৪৬ লাখের বেশি, জট কমাতে নতুন পদক্ষেপের কথা জানালেন আইনমন্ত্রী

দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালত—সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে মামলার জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিচারক নিয়োগ ও নতুন আদালত প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আইনমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে মোট ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৮ হাজার ৭১৩টি। এসবের মধ্যে ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি এবং ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলা।

অন্যদিকে, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি এবং ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালতের দুই বিভাগে এক বছরে মোট ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধস্তন আদালতগুলোতেও মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত এক বছরে এসব আদালতে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৭৩টি দেওয়ানি এবং ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

মামলার জট নিরসনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং মামলার জট ধীরে ধীরে কমে আসবে।


Side banner

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!