• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

তাজমহল নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক,নোটিশ হাইকোর্টের


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
তাজমহল নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক,নোটিশ হাইকোর্টের

ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও আদালতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাজমহল মূলত মোগল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত সমাধিসৌধ নাকি এটি ‘তেজো মহালয়া’ নামে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির—এ দাবিকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-কে নোটিশ দিয়েছে।

সম্প্রতি বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ আবেদনকারী পক্ষের বক্তব্য শুনে জানতে চেয়েছেন, বিতর্কিত দাবিগুলো যাচাইয়ের জন্য তাজমহলের জরিপ পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা রয়েছে কি না। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআইকে তাদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের দাবি, বর্তমান তাজমহলের স্থানে বহু আগে ‘তেজো মহালয়া’ নামে একটি হিন্দু মন্দির ছিল, যেখানে আগ্রেশ্বর মহাদেবের পূজা হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মোগল আমলে স্থাপনাটির কাঠামোগত পরিবর্তন করে সেটিকে সমাধিসৌধে রূপ দেওয়া হয়। এই দাবির ভিত্তিতে আবেদনকারীরা স্থাপনাটির ভেতরে পূজা ও দর্শনের অধিকার চেয়েছেন এবং আদালতের মাধ্যমে একটি স্বাধীন জরিপ পরিচালনার আবেদন জানিয়েছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্থাপনাটির বিভিন্ন স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তারা মনে করেন। তবে এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে ইতিহাসবিদ, সরকারি নথি এবং ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, তাজমহল ১৭শ শতকে মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ করেন। ১৬৩১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৬৫৩ সালের দিকে শেষ হয়। বর্তমানে এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য এবং ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ।

এই বিরোধের সূত্রপাত কয়েক বছর আগে, যখন তাজমহলের ভেতরে জরিপ ও ভিডিওগ্রাফির জন্য আদালতের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়। তবে আগ্রার নিম্ন আদালত এবং পরে অতিরিক্ত জেলা জজ আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, আবেদনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় ভূমি-সংক্রান্ত নথি বা সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

নিম্ন আদালতের ওই দুটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই বর্তমানে এলাহাবাদ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হয়েছে।

নতুন আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তাজমহলের কিছু অংশ তালাবদ্ধ থাকায় দর্শনার্থীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আবেদনকারীরা আদালতের কাছে ভবনের ভেতর ও বাইরের অংশের স্বাধীনভাবে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনারও আবেদন জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হাইকোর্ট এখনো দাবিগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মত দেয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্য চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।


Side banner
Link copied!