ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো জানা না গেলেও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয় দফায় আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাণহানি কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য আশঙ্কা রয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি হতে পারে—যদিও এটি কেবল একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস, চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা নয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, রাজধানী কারাকাসে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশকের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা ও জরুরি সেবাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :