• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্মতিসূচক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে ‘ধর্ষণ’ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্মতিসূচক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে ‘ধর্ষণ’ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

দীর্ঘদিন ধরে চলা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ক কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে সব ক্ষেত্রে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এ পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ট্রায়াল কোর্টে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমও বাতিল করে দেন আদালত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি নিজের ইচ্ছা ও সচেতন সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তবে পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়ার ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

আদালত আরও বলেন, প্রতিটি মামলার বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল কি না— সেটিই এ ধরনের মামলার মূল বিবেচ্য বিষয়।

মামলার পটভূমি

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে এসে এক নারীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে তদন্তে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো সমর্থন পাওয়া যায়নি বলে আদালত উল্লেখ করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সম্পর্কের প্রতিটি শারীরিক সম্পর্কের একমাত্র ভিত্তি ছিল বিয়ের প্রতিশ্রুতি— এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, অভিযোগকারী নারী এফআইআর দায়েরের পর একই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। এই ঘটনাও মামলার প্রেক্ষাপট মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। আদালতের মতে, মামলার পরিস্থিতি থেকে মনে হয়েছে, বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের নজির

রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা না রেখে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাহলে তা ধর্ষণের অপরাধের আওতায় আসতে পারে।

কিন্তু কেবল সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়া মাত্রই তা ধর্ষণের মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

মামলার কার্যক্রম বাতিল

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের স্টেট অব হরিয়ানা বনাম ভজন লাল মামলার নির্দেশনার আলোকে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, এই মামলায় বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে বিচার প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।

এ কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলমান সব আইনি কার্যক্রম বাতিলের নির্দেশ দেন আদালত।

তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই পর্যবেক্ষণ সব মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে বিয়ের প্রতিশ্রুতি আদৌ প্রতারণামূলক ছিল কি না এবং অভিযোগকারী সম্মতি কী পরিস্থিতিতে দিয়েছেন— তা পৃথকভাবে বিচার করতে হবে।


Side banner

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!