সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পেনশন ব্যবস্থায় আনা সংস্কারের ফলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, পারিবারিক পেনশন এবং ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে এসব সুবিধা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়।
সংস্কার অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় সরকারি চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিরা অবসরের পর তুলনামূলক বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
নতুন কাঠামোয় চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পেনশনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের চাকরির ক্ষেত্রে শেষ মূল বেতনের ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের চাকরির ক্ষেত্রে এই সুবিধা মূলত চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হবে।
অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক পেনশনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনা হয়েছে। ৬৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশন ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। পাঁচ থেকে নয় বছর চাকরিকালের জন্য প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা গ্র্যাচুইটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, কোনো কর্মচারী চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারালে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাকরির প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।
পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধবা স্ত্রীর পুনর্বিবাহ-সংক্রান্ত পূর্বের কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে মৃত নারী সরকারি কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশনের আওতায় আসতে পারবেন।
অবসর সুবিধার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ছুটি নগদায়নের সীমা বৃদ্ধি। আগে সর্বোচ্চ ১২ মাসের অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুযোগ থাকলেও নতুন ব্যবস্থায় তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে অবসরের সময় সরকারি কর্মচারীরা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সুবিধা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই সময় যারা অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) ছিলেন, তারাও নতুন সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আপনার মতামত লিখুন :