• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে দুই দফা বন্যায় ৪৯৯ হেক্টর ফসলের ক্ষতি, সহায়তার অপেক্ষায় কৃষক


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কুড়িগ্রামে দুই দফা বন্যায় ৪৯৯ হেক্টর ফসলের ক্ষতি, সহায়তার অপেক্ষায় কৃষক

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামে পরপর দুই দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, প্রায় ৪৯৯ হেক্টর জমির সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের, যাদের অনেকেই এবার উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে দীর্ঘ সময় তলিয়ে থাকায় পটল, করলা, শসা, পাট, বাদাম এবং আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে নষ্ট বা আধাপাকা ফসল তুলে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ সেগুলো আর বাজারজাত করার উপযোগী ছিল না।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার নয়টি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এক দফা বন্যার পানি নামার আগেই আবারও নতুন করে পানি বাড়ায় ফসল দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অধিকাংশ ক্ষেতেই উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ধারদেনা করে আবাদ করা জমির ফসল হারিয়ে তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকের পক্ষে আগামী মৌসুমের চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকার কৃষক মোছাব্বের হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও ওঠেনি। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে চাষ শুরু করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে কৃষকদের পুনর্বাসন এবং পরবর্তী মৌসুমের আবাদে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুই দফা বন্যায় জেলার নয়টি উপজেলার মোট ৪৯৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষ হলে সহায়তার পরিধি নির্ধারণ করা হবে।


Side banner

সারাবাংলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!