• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজির সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর, সংসদে সংশোধনী বিল পাস


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজির সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর, সংসদে সংশোধনী বিল পাস

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনলাইনে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া এবং পরীক্ষার ডেটাবেইসে অবৈধ প্রবেশ বা ডিজিটাল কারসাজির বিরুদ্ধে নতুন শাস্তির বিধান রেখে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে এসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিরোধী দলের সদস্যদের জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর বিলটি অনুমোদন পায়।

সংশোধিত আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেইসে হ্যাকিং বা ডিজিটাল কারসাজিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা, গোপন করা বা অন্য যেকোনো ধরনের ডিজিটাল হস্তক্ষেপ এ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে নতুন আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বোচ্চ শাস্তি আগের আইনের তুলনায় কমানো হয়েছে। ১৯৮০ সালের আইনে এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড। সংশোধিত আইনে তা কমিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহারের চেষ্টা, পরীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্য করা এবং পরীক্ষার্থীদের অসদুপায়ে সহায়তার উদ্দেশ্যে চুক্তি বা চুক্তির চেষ্টা করলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়মের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। কোনো পরীক্ষক যদি অন্যায্যভাবে উত্তরপত্রের নম্বর কম বা বেশি দেন এবং তৃতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ আইনের আওতায় কোনো শিশু অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার শিশু আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

এদিন সংসদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে প্রণীত ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ দীর্ঘদিন কার্যকর না হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতায় নতুন আইন আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি কলা, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


Side banner

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!