• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

শরীয়তপুরে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের হুমকি, বৃদ্ধার জিডি


FavIcon
নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুরঃ
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
শরীয়তপুরে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের হুমকি, বৃদ্ধার জিডি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি ও বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ৭০ বছর বয়সী কমলা বেগম। রোববার (১৬ আগস্ট) ভেদরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি জিডিটি করেন।

জিডি নম্বর ৬৭২

 

কমলা বেগম ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের পাঁচালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাই দুলাল চৌকিদার, হারুন চৌকিদার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

তার দাবি, বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে তাকে হামলা, হেনস্তা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এ কারণে নিজের বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকছেন বলেও জানান এই বৃদ্ধা।

 

কমলা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা তাকে যে জমি দিয়েছেন এবং বাবার সম্পত্তিতে তিনি একটি থাকার ঘর নির্মাণ করছিলেন। অভিযোগ, ওই নির্মাণাধীন ঘরটিতে তার ভাই দুলাল চৌকিদার তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।

কমলা বেগম বলেন, তার কোনো সন্তান নেই এবং স্বামীও মারা গেছেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি মা-বাবার ভিটায় ফিরে গিয়ে সেখানে বসবাস করতে চান। একই সঙ্গে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার সুযোগটুকুও চান তিনি।

তার ভাষায়, মা-বাবার ভিটায় ফিরে যাওয়াই এখন তার প্রধান আকাঙ্ক্ষা। নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার বিরোধের কারণে সেই সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

 

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে কমলা বেগম স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য, জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং স্থানীয় বাস্তবতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। কমলা বেগমের দায়ের করা জিডির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুলাল চৌকিদার, হারুন চৌকিদার বা তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


Side banner

সারাবাংলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!