শরীয়তপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করায় জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে শরীয়তপুর জেলা জজ কোর্টের ভিতরে বিজ্ঞ আইনজীবী সানোয়ার মল্লিক এবং এডভোকেট শাহিন খান তার চেম্বারে সন্ত্রাসীর হামলার শিকার হয়েছেন। দুই আইনজীবীকে মারপিটের ঘটনাটি ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আইনজীবীদের ভিতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় শরিয়তপুর জেলা বারের সকল আওয়ামী লীগ সমর্থিত্ব আইনজীবী তাদের সকল কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার আদালত চলাকালীন সময়ে জেলা বারের দুই আইনজীবী এডভোকেট সানোয়ার মল্লিক এবং এডভোকেট শাহিন খান সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।
সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সানোয়ার হোসেন মল্লিক, শাহিন খান, শহিদুল ইসলাম সিকদারসহ আরো কিছু আইনজীবী। আইনজীবীদের কেক কেটে জন্মদিন পালন করার বিষয়টি ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা বিএনপির কিছু নেতা কর্মীদের দৃষ্টিগোচরে আসলে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম টিপু মাদবর এবং তার পুত্র ছাত্রদল নেতা মিহির মাদবর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমান ও বিএনপি নেতা সুমন খানসহ তাদের নেতৃত্বে আরো অনেকেই গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টার দিকে জেলা জজ কোর্টের ভিতরে প্রবেশ করে বিজ্ঞ আইনজীবী সানোয়ার হোসেন মল্লিককে অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দা মারপিট করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করার আরেক আইনজীবী শাহিন খানকে তার তিন তলা ভবনের তৃতীয় তলার চেম্বারের ভিতরে প্রবেশ করে মোরশেদ আলম টিপু মাদবর ও আমিনুল ইসলাম আমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা কর্মীরা প্রথম ধাপে সন্ত্রাসী কায়দায় মারপিট করে পরবর্তীতে তিন তলা থেকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে আনে এবং দ্বিতীয় ধাপে মারপিট করে। এডভোকেট শাহিন খান বিএনপি'র নেতাকর্মীদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে জাকিরের চায়ের দোকানে ভিতরে প্রবেশ করে। মারপিটের শিকার এডভোকেট শাহিন খান গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আমরা কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী মিলে কেক কেটে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করি।আমাদের ভিতরে কেউ একজন জন্মদিন পালন করার বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করে। এই কারণেই বিএনপির পরিচিত নেতাকর্মীরা ৩০ থেকে ৪০ জন অতর্কিতভাবে আমার চেম্বারের ভিতরে ঢুকে আমাকে মারপিট করে। এদের ভিতর একজন বলে ওকে তিন তলা থেকে নিচে ফেলে দে। সাথে সাথে ওদের ভিতরে আরো কয়েকজন বলল ওকে তিন তলা থেকে ফেলে দিলে ও মরে যাবে আমরা বিপদে পরব।ওরা তখন আমাকে টেনে হিঁচড়ে মারতে মারতে তিন তালা ভবন থেকে নিচে নামায়। আমাদের মত আইনজীবীদেরকে বহিরাগত লোকজন আদালত চত্বরে ঢুকে মারপিট করে আমরা কোন সভ্য সমাজে বসবাস করছি। দল-মত নির্বিশেষে এ বিচার এই দেশের মানুষের কাছে দিলাম এবং আল্লাহর কাছে দিয়ে রাখলাম।
বিজ্ঞ আইনজীবী সানোয়ার মল্লিক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করার কারণে বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম টিপু মাদবর এবং তার পুত্র মিহির মাদবর সহ আরো অনেকেই জেলা জজ কোর্টের ভিতরে ঢুকে অতর্কিতভাবে আমাকে মারপিট করে। যে দেশে বিএনপি নেতা কর্মীদের হাত থেকে আমাদের মত আইনজীবীরা নিরাপদ না।এ দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা বর্তমান কি আপনাদের মত সাংবাদিকরা বুঝে নেন। আমি এতটুকুই বলবো এদেশের মানুষ বিএনপির হাতে নিরাপদ না।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন,কোর্টের মারামারির বিষয়টি আমার কাছে একটি খবর আসে। আমি তখন সাথে সাথেই আমার টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠাই। মারামারি বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :