• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আসাদুজ্জামান খানের ভগ্নিপতির দাবি, ‘আমি ছাত্রশিবির করতাম’


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আসাদুজ্জামান খানের ভগ্নিপতির দাবি, ‘আমি ছাত্রশিবির করতাম’

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি ও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদ লতিফ ভূঁইয়া দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বরং তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আদালতে জানিয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়। এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন লতিফ ভূঁইয়া।

আদালতে তিনি বলেন, আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি নিজে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন বলেও আদালতকে জানান।

লতিফ ভূঁইয়া আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তিনি আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে তিনি কেন কামালের বাসায় যেতেন না—এমন যুক্তিও আদালতে তুলে ধরেন তিনি।

লতিফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান।

আদালতে লতিফ ভূঁইয়ার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, তার মক্কেল এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। এরই মধ্যে দুটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। জামিনের পর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, যে ঘটনার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে সেটি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের। তবে মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালে এসে ওই মামলায় লতিফ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। জামিন ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ আদালতে দাবি করেন, লতিফ ভূঁইয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত লতিফ ভূঁইয়াকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারা থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। আন্দোলনকারীদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায় গুলি লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি ভাটারা থানায় মামলা করেন।


Side banner
Link copied!