• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮

যমুনার বালু না পেয়ে বিএনপির সন্ত্রাসী সাত্তার এখন বেপরোয়া


FavIcon
জহুরুল ইসলাম:
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ০৫:৪৭ পিএম
যমুনার বালু না পেয়ে বিএনপির  সন্ত্রাসী সাত্তার এখন বেপরোয়া

আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। গৃহ বিবাদের খললায়ক বিএনপি। পৃষ্ট পোষকতায় ক্ষমতাসীনরা। যমুনা নদীর বালু উত্তোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কাজের কর্তৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সিরাজগঞ্জে চলছে গৃহবিবাদ। আর আগুনে ঘি ঢালছেন সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ।২০১২ সনে ২ সেপ্টেম্বর যমুনার বালুর নিয়ন্ত্রক বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিল আব্দুস ছাত্তারের কিলিং মিশনের হাতে নদী পথে নিহত হন আওয়ামীলীগের নেতা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ও তার শ্যালক টিক্কা। এ ঘটনায় আরো ৪জন গুরুতর আহত হন। ঘটনার কিছুদিন আগে নাসির উদ্দিন হত্যার আশংকা করে ২টি মামলা করেছিল ২৫/০৭/২০১২ইং তারিখে দায়েরকৃত সিরজাগঞ্জ থানার মামলা নং ৫০ ধারা ৩২৬, ৩২৩, ১৪৩, ৩২৪, ১০৭, ৩৭৯, ৫০৬ দ:বি:। ৩১/০৮/২০১২ তারিখে মামলা নং ৭৪ ধারা ১৪৩, ৪৪৮, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬, ১০৪ দ:বি:। এদুটি মামলার প্রধান আসামী ছিল বালু ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার। মামলায় নাসির কে হত্যা করার হুমকির বর্ণনা দেয়া হয়েছিল কিন্তু কিলিং মিশনের হাত থেকে নাসির-টিক্কা রক্ষা পায়নি। সিরাজগঞ্জের যমুনার বালু নিয়ে জোড়া খুনের পর থেকে বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার হয়ে উঠে অপ্রতিরোধ্য। আর তাকে পিছনের ফিরে তাকাতে হয়নি। আব্দুস ছাত্তার তৈরী করেন নিজস্ব বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের হাতে অনেকে খুন হয়েছে খুন হওয়া পরিবার বিচার পায়নি। আনসব নামের একজনকে খুন করলেও কোন বিচার হয়নি। ছানু নামে এক খুনি এখনো সাত্তারের বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে বলে জানা গেছে।প্রায় দেড় যুগ হলো নামে বেনামে আব্দুস ছাত্তার যমুনা নদীর বিশাল খনিজের মালিকানা সেজে অডেল টাকা উপার্জন করেছেন। এখনো তিনি বিএনপি’র নেতৃত্ব থেকে যমুনা নদীর বালু নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিজস্ব বাহিনী লালন পালন করছেন। আওয়ামীলীগের মধ্যে গৃহ বিবাদকে পুজি করে আব্দুস সাত্তার একটি পক্ষের সমর্থন নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া, কাওয়াকোলা, সয়দাবাদ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৭, ৯, ১০, ১৪ নং ওয়ার্ডের সীমানার অংশ বিশেষ যমুনা নদীর মানচিত্রে অবস্থিত। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা ও এলাকার অবকাঠামোর উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ শিল্প কলকারখানা, ইপিজেট স্থাপনের কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন যমুনার বালু মহল ইজারা প্রদান করে। বিগতবছরগুলোর চেয়ে এবছর ৯ গুন ইজারা মূল্য বৃদ্ধি করে টেন্ডার আহবান করা হয়। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়। এর আগে নামকাওয়াস্তে ইজারা মূল্য দিয়ে বেনামে বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তারের করায়াত্বে এ বালু মহলটি ছিল। চলতি বছর বালু মহলটি আব্দুস ছাত্তারের হাত ছাড়া হয়ে যাবার পর এলাকায় তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে সন্ত্রাস ও হুমকি প্রদান শুরু করে এনিয়ে বর্তমান ইজারাদারের পক্ষে কয়েকটি জিডি, মামলা দায়ের হয়। এদিকে আব্দুস ছাত্তার বালু মহলের নিয়ন্ত্রণ থাকাকালে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করে এমনকি কয়েকজন জনপ্রিতিনিধর নাম ভাঙ্গিয়ে বিপুল অর্থ চাঁদা আদায় করে এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়। এমামলায় অন্যতম আসামী বিএনপি সন্ত্রাসী আব্দুস ছাত্তার এখন গা ঢাকা দিয়েছে। আত্মগোপনে থাকলেও সিরাজগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের একটি প্রভাবশালী অংশ আব্দুস ছাত্তারকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পানি উন্নয়ন বোর্ডে বালু দস্যু হিসেবে চিহ্নিত ছাত্তারকে সুবিধে নিয়ে দিয়েছেন বলে যমুনা পাড়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। সততা সমিতির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০/২০ হাজার করে টাকা আদায় করা হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার সদস্য সংগ্রহ করে এসব টাকা নিয়ে আব্দুস ছাত্তার এখন গা ঢাকা দিয়েছে। জেলা সমাজ সেবা অফিসে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সততা সমিতির নামে কোন সামাজিক/এনজিও সংস্থার রেজিষ্ট্রেশন নেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় সততা সমিতির সাইনবোর্ড অফিস ব্যবহার করে জনগণের অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।



Side banner