• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

১৭ দিনেই ২৪ হাজার কোটি আয়, ‘স্পাইডার-ম্যান’ সাফল্যের ১০ কারণ


FavIcon
বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
১৭ দিনেই ২৪ হাজার কোটি আয়, ‘স্পাইডার-ম্যান’ সাফল্যের ১০ কারণ

মুক্তির মাত্র ১৭ দিনেই বিশ্ব বক্স অফিসে ২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে মার্ভেল ও সনির সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর আয় প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে সিনেমাটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ২ বিলিয়ন ডলার আয় করা ছবির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

এর আগে মাত্র ১১ দিনে একই মাইলফলক স্পর্শ করেছিল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র বৈশ্বিক আয় এখন ২ দশমিক ০২২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজার থেকে এসেছে ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১ দশমিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার।

সিনেমাটির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কী কাজ করেছে—এ নিয়ে বিশ্লেষণে উঠে আসছে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

 

স্পাইডার-ম্যান শুধু মার্ভেলের একটি চরিত্র নয়; বিশ্বজুড়ে পরিচিত অন্যতম জনপ্রিয় সুপারহিরো। ফলে মার্ভেলের অন্য কিছু সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমলেও স্পাইডার-ম্যানকে ঘিরে সেই আগ্রহ তুলনামূলকভাবে স্থায়ী।

এই চরিত্রের জনপ্রিয়তা মূলত কোনো একটি সিনেমা বা ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর নির্ভরশীল নয়। কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে স্পাইডার-ম্যানের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

 

‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আগে টম হল্যান্ড অভিনীত ‘হোমকামিং’, ‘ফার ফ্রম হোম’ এবং ‘নো ওয়ে হোম’ দর্শকের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

এ ছাড়া ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এ তাঁর উপস্থিতিও চরিত্রটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। ফলে নতুন সিনেমাটি দর্শকের কাছে অপরিচিত কোনো চরিত্র বা জগৎ দিয়ে শুরু হয়নি।

 

আগের সিনেমার শেষে পিটার পার্কারের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তার পরিচয় ও সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি দর্শকের মনে একাধিক প্রশ্ন রেখে যায়।

‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই আবেগের পরবর্তী অধ্যায় হওয়ায় আগের সিনেমার দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নতুন গল্প জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক অনেক সুপারহিরো সিনেমায় মাল্টিভার্স, বিকল্প বাস্তবতা ও বিপুল সংখ্যক চরিত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তুলনামূলকভাবে সেই বিশাল কাঠামো থেকে সরে এসে পিটার পার্কারের ব্যক্তিগত জীবন ও নিউইয়র্ককেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়েছে।

একজন তরুণের ব্যক্তিজীবন, দায়িত্ব এবং সুপারহিরো পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গল্প দর্শকের কাছে তুলনামূলকভাবে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

 

সুপারহিরো সিনেমায় মহাবিশ্ব রক্ষার মতো কোনো বিশেষ বস্তু বা শক্তিকে কেন্দ্র করে গল্প এগোনোর প্রবণতা রয়েছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই প্রচলিত কাঠামোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে পিটার পার্কারের ব্যক্তিগত সংকট ও সম্পর্ককে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে।

ফলে দর্শকের আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে চরিত্রটি নিজেই।

 

বড় বাজেটের সুপারহিরো সিনেমা হলেও ছবিটিতে চরিত্রনির্ভর গল্প ও তুলনামূলক বাস্তবধর্মী পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সিজিআইনির্ভর দৃশ্যের পরিবর্তে কিছু অংশে বাস্তব অ্যাকশন ও চরিত্রের ব্যক্তিগত সংকটকে সামনে আনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের একাংশের মধ্যে এমন গল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এই নির্মাণশৈলী সিনেমাটির জন্য ইতিবাচক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

টম হল্যান্ড ও জেনডায়া দুজনই আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় তারকা। পর্দায় পিটার পার্কার ও এমজের সম্পর্ক দর্শকের কাছে আগে থেকেই পরিচিত। বাস্তব জীবনেও তাদের সম্পর্ক ঘিরে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে।

‘নো ওয়ে হোম’-এর পর দুই চরিত্রের সম্পর্ক নতুন সিনেমায় কীভাবে এগোয়, সেটিও দর্শকের কৌতূহলের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সিনেমা মুক্তির আগে স্যাডি সিঙ্কের চরিত্র নিয়ে নির্মাতারা খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চরিত্র নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

চরিত্রটির পরিচয় ও সম্ভাব্য ভূমিকা জানতে দর্শকের আগ্রহ সিনেমাটির প্রচারণায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। বড় কোনো তথ্য আগেভাগে প্রকাশ না করাও এ ক্ষেত্রে কার্যকর বিপণন কৌশল হিসেবে কাজ করেছে।

 

একটি সিনেমার প্রথম সপ্তাহের ব্যবসার পাশাপাশি পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে দর্শকের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

দর্শকের মুখে মুখে সিনেমার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়লে নতুন দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগ্রহ পান। ফলে বক্স অফিসে ছবিটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়ে।

 

সবশেষে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসে পিটার পার্কারের ব্যক্তিগত গল্প। নতুন শত্রুর মোকাবিলার পাশাপাশি নিজের সম্পর্ক, একাকিত্ব, দায়িত্ব ও আবেগের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাকে।

অর্থাৎ শুধু বড় ধরনের অ্যাকশন বা ভবিষ্যৎ মার্ভেল সিনেমার ইঙ্গিতের ওপর ছবিটি নির্ভর করেনি। একজন পরিচিত চরিত্রের ব্যক্তিগত সংকটকে দর্শকের আবেগের সঙ্গে যুক্ত করাই সিনেমাটির অন্যতম বড় সাফল্য।

 

তৃতীয় সপ্তাহান্তেও ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র ব্যবসা শক্তিশালী ছিল। ওই সময়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় হয়েছে ১৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।

চীনে তৃতীয় সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ছিল ১০ মিলিয়ন ডলার এবং দেশটিতে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২১০ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, ভারত, ব্রাজিল ও ফ্রান্সেও সিনেমাটি উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করেছে।

বিশ্বের ৬৭টি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রদর্শিত সিনেমাটি ইতোমধ্যে ভারতসহ ৩৬টি বাজারে সনি পিকচার্সের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র সাফল্য দেখাচ্ছে, সুপারহিরো সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং পরিচিত চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে এনে শক্তিশালী ব্যক্তিগত গল্প, আবেগ ও ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারলে বড় পর্দায় দর্শকের আগ্রহ এখনো ব্যাপকভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


Side banner

বিনোদন বিভাগের আরো খবর

Link copied!