• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে হত্যা মামলার আসামীর মৃত্যু


FavIcon
মোঃ রহমত আলী, হবিগঞ্জঃ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে হত্যা মামলার আসামীর মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ভিতরে এক হত্যা মামলার আসামীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
জানাযায়,হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউপি'র ৩নং ওয়ার্ডের বাতাকান্দী গ্রামের হযরত আলী হত্যা মামলার রফিক মিয়া(৪৫)নামের এক আসামীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নিহত রফিক মিয়া বাতাকান্দী গ্রামের মৃত নায়েব আলী মিয়ার পুত্র এবং স্হানীয় চকবাজারে ফার্মেসী ব্যবসায়ী ছিলেন।
কারাগারে নিহত হওয়া রফিক মিয়া(৪৫)এলাকার সংঘর্ষে নিহত হওয়া হযরত আলী নামের এক ব্যক্তির হত্যা মামলার আসামী ছিলেন।
এবং উক্ত মামলায় দীর্ঘ ৪ মাস ধরে কারাভোগ করে আসছিলেন।

৫জানুয়ারি(সোমবার)বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করলে তাকে কারাগারের ভিতরে কারা কতৃপক্ষ চিকিৎসা প্রদানকালে তাহার মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারা কতৃপক্ষ।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ভিতরে হঠাৎ করে আসামীর এমন মৃত্যুর ঘটনায় অন্যান্য,হাজতি ও কয়েদী আসামীদের মধ্যে আতংক দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।

পরে কারা কতৃপক্ষ রফিক মিয়াকে কারাগার থেকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান।
এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ রাত আনুমানিক ৭টার দিকে নিহত রফিক মিয়ার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করার বিষয়টি জানিয়েছেন
নিহত রফিক মিয়ার পরিবার।

এদিকে কারা কতৃপক্ষ নিহত রফিক মিয়ার মৃত্যুর কারণ হিসাবে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন তার হৃদক্রিয়া বন্ধ(স্টোক)হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন।
এটি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগার সুপার বিল্লাল হোসেন।

নিহত রফিক মিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়,গত বছরের কোরবানি ঈদের পরদিন ৪ আগষ্ট বাতাকান্দী গ্রামের হারুন মিয়া ও ব্যবসায়ী উসমান মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ ও জায়গা সংক্রান্ত বিষয়াধি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে হারুন মিয়া ও উসমান মিয়ার গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে ঐ দিন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উক্ত সংঘর্ষে হারুন মিয়ার গোষ্ঠীর হযরত আলী নামে একজনের প্রানহানীর ঘটনা ঘটে।
এবং উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ সহ শতাধিক লোকজন আহত হন।
পরে হযরত আলী হত্যার ঘটনায় তার পুত্র বাদী হয়ে উসমান মিয়াকে প্রধান আসামী করে এবং রফিক মিয়া সহ আরও অনেককে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আসামি রফিক মিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হবিগঞ্জ আদালতে(হাজীর)আত্মসমর্পণ করে তাদের নিযুক্ত এডভোকেট(উকিল)মারফতে জামিন প্রার্থনা করেন।
বিঞ্জ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
এর পর থেকে নিহত রফিক মিয়া দীর্ঘ ৪ মাস ধরে কারাভোগ করে আসছিলেন।

কারা কতৃপক্ষ নিহত রফিক মিয়ার মরদেহটি বিকাল ৪টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান।

এমনকি রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় ১২টার দিকে নিহতের পরিবারের লোকজন ও কাছের এক প্রতিবেশী জানান,
নিহত রফিক মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবার থেকে কোন রকম অভিযোগ নেই।

বর্তমানে তারা রফিক মিয়ার মরদেহটি ময়না তদন্ত(কাটাছিড়া)ছাড়া নেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে একটি আবেদন করেছেন।
আজ ৬জানুয়ারি (মঙ্গলবার)সকালে তারা এই বিষয়ের ফাইনাল কি সিদ্ধান্ত হয় এটা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান।

বর্তমানে তারা রফিক মিয়ার লাশের পাশে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে অবস্থান করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন নিহত রফিক মিয়ার এলাকার এবং খুবই কাছের এক প্রতিবেশি।

জেল হাজত(কারাগারের) ভিতরে রফিক মিয়ার মৃত্যুর খবরটি এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও নিহত রফিক মিয়ার পরিবার,আত্মীয় স্বজনের মধ্যে এক শোকের পরিবেশের সৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া যায়।


Side banner

সারাবাংলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!