• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

উচ্চ সুদ–জ্বালানি অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্বে চাপের শঙ্কা


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
উচ্চ সুদ–জ্বালানি অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্বে চাপের শঙ্কা

দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয় কাঠামো পুনর্গঠন না হলে অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সস্তা শ্রম বিনিয়োগ টানার জন্য যথেষ্ট নয়। মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, জ্বালানি সরবরাহ, ডলারের বাজার, আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা ও কর ব্যবস্থাপনা—সব মিলেই বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি হয়। এসব সূচকে ভিয়েতনাম ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেশি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতায় বিনিয়োগের গতি কমেছে। ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন ইউসুফ বলেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ও লজিস্টিক ঘাটতি শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৭০ কোটি টাকা। শীর্ষ দশ কোম্পানির ছয়টিতে বিদেশি অংশীদারিত্ব কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এ নিবন্ধিত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব ৫৮ শতাংশ কমেছে।

এক বছরে বন্ধ হয়েছে ১৮২টি পোশাক কারখানা। এতে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব—দুই খাতেই চাপ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে রাজস্ব বিভাগও।

আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট লুৎফুন্নেসা সৌদিয়া খান বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়লে কর আদায়ও কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যবসার খরচ বাড়লে কর পরিশোধের সক্ষমতা কমে, ফলে রাজস্ব ঘাটতি বাড়ে এবং সরকারের ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। এতে সুদের হার ও ব্যাংকিং ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মত, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু পোশাক ও রেমিট্যান্সনির্ভরতা নয়, রপ্তানির পণ্যে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। অর্থনীতির বর্তমান প্রবণতাকে তারা সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন।


Side banner
Link copied!