• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

তেলের লাইনে ভিড় কেন? আতঙ্ক না বাস্তব সংকট


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
তেলের লাইনে ভিড় কেন? আতঙ্ক না বাস্তব সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার খবরে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় বেড়েছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার সাময়িকভাবে তেল শেষ হওয়ার খবর ছড়িয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে—এটি মূলত তেলের ঘাটতি নয়, বরং আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে তেল কেনার ফল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ অনেকাংশেই দেশীয় উৎসের ওপর নির্ভরশীল। দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে পেট্রোল উৎপাদন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি পেট্রোল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না।

বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) ছাড়াও কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশে পেট্রোল উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যা দেশের মোট চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

অন্যদিকে ডিজেল আমদানিনির্ভর হলেও সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন ডিজেল সরাসরি দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। এর ফলে কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল বিক্রিতে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার, জিপ বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং বড় যানবাহনে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্রয়ের ক্ষেত্রে রসিদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, তবে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও স্থিতিশীল করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত না করে স্বাভাবিক ব্যবহার বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপ্রয়োজনীয় মজুতই অনেক সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।


Side banner
Link copied!