• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘বিজয় ঘোষণা করে বেরিয়ে আসার’ পরামর্শ ট্রাম্পের উপদেষ্টার


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ইরান যুদ্ধ থেকে ‘বিজয় ঘোষণা করে বেরিয়ে আসার’ পরামর্শ ট্রাম্পের উপদেষ্টার

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই চাপ বাড়ছে। সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেভিড স্যাকস যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের এটিই প্রথম প্রকাশ্য ইঙ্গিত।

ডেভিড স্যাকস একজন মার্কিন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী। প্রযুক্তি খাতে তিনি সুপরিচিত এবং সিলিকন ভ্যালির একজন প্রভাবশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত। অতীতে তিনি পেপাল প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে ইয়াম্মার নামে একটি সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে মাইক্রোসফট অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি নীতিমালা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চলাকালেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায় এবং দুই সপ্তাহ ধরে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

তবে যুদ্ধ শুরুর অন্যতম লক্ষ্য—ইরানের সরকারকে উৎখাত করা—এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক পডকাস্টে ডেভিড স্যাকস বলেন, এখনই ‘বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে সরে আসার’ উপযুক্ত সময় হতে পারে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত নিলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে ওই দ্বীপের তেল অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে।

ডেভিড স্যাকস সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আরও হামলা হলে পরিস্থিতি বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় হামলা চললে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরান সংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, কিছু মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সেখানে আমাজন ও ওরাকলের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ডেভিড স্যাকসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে ইলন মাস্কও আছেন বলে জানা যায়।


Side banner

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!